জামায়াত নেতার অভিযোগ: নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, ভোট পুনঃগণনা প্রয়োজন
খুলনার ফুলতলা উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে একটি নির্বাচনোত্তর কর্মী সমাবেশে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। রোববার সকাল আটটার দিকে আইডিয়াল পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তিনি নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে তীব্র অভিযোগ উত্থাপন করেন।
নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং ও ভোটের হার নিয়ে মন্তব্য
গোলাম পরওয়ার বলেন, 'আমাদের আমিরে জামায়াতসহ ১১-দলীয় নির্বাচনীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে মোট ৩২টি আসনের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হয়েছে। জনগণ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, টেম্পারিং বা বিভিন্ন মেকানিজমের মাধ্যমে আমাদের বিজয়ী হওয়া থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের পরের রাতেই গেজেট প্রকাশ করে এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে তোলা হয়েছে। তবে, তিনি দলের কর্মীদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, 'নির্বাচনের এই ফলাফলে আমাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই, কারণ ভোটের পার্সেন্টেজে আলহামদুলিল্লাহ আমরা অনেক এগিয়েছি।'
অভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচন ও বর্তমান পরিস্থিতি
তিনি অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই নির্বাচনকে একটি জরুরি বিষয় হিসেবে আখ্যায়িত করেন। গোলাম পরওয়ারের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা এবং দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, 'জনগণ সত্যিই পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিং আমাদের দেশে অনেক আগে থেকেই চলে আসছে।'
কর্মীদের ওপর হামলা ও ভোট পুনঃগণনার প্রক্রিয়া
সমাবেশে গোলাম পরওয়ার দেশের একটি বাজে সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করে বলেন, 'নির্বাচনের পরে যারা পরাজিত হয়, তাদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালানো একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।' তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এই সংস্কৃতি থেকে সবাই বেরিয়ে আসবে, কিন্তু বর্তমানে সারা দেশে জামায়াতের কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা এবং তাদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এই বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
ভোট পুনঃগণনার বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমাদের নির্বাচনী প্রধান এজেন্ট ইতিমধ্যেই রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দরখাস্ত দিয়েছে। ডিসি মহোদয় যদি ভোট গণনা করে দেন, তাহলে সবার জন্যই তা মঙ্গলজনক হবে।' তবে, তিনি আইনি জটিলতার কথা উল্লেখ করে যোগ করেন, 'যেহেতু তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে, তাই এখন আদালতে মামলা দায়েরের মাধ্যমে মহামান্য আদালতের রায় সাপেক্ষে গণনা হতে পারে, যা কিছুটা সময়সাপেক্ষ হতে পারে।' তিনি কর্মীদের ধৈর্য ধারণের পরামর্শ দেন।
অন্যান্য সমাবেশ ও উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
এই সমাবেশটি উপজেলা জামায়াতের আমির আ. আলিম মোল্যার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সেক্রেটারি সাইফুল হাসান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, গোলাম কুদ্দুস, গাওসুল আযম হাদী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলাম, যুব বিভাগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ এবং জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইউসুফ ফকির প্রমুখ।
এরপর, গোলাম পরওয়ার সকাল ১০টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার শোলগাতিয়া মাদরাসায় এবং বেলা ১১টায় আঠারোমাইলে অনুষ্ঠিত পৃথক নির্বাচনোত্তর কর্মী সমাবেশে যোগ দেন। এসব সমাবেশে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুখতার হোসাইন সভাপতিত্ব করেন। তিনি এসব স্থানেও একই ধরনের বক্তব্য রাখেন এবং কর্মীদের সংঘবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
