নাটোরে নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষ: বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও আহত ৮, আটক ২
নাটোরে নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষে আহত ৮, আটক ২

নাটোরের লালপুরে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: সংঘর্ষে আহত ৮, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

নাটোর জেলার লালপুর উপজেলায় সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা তাইফুল ইসলাম টিপুর সমর্থক এবং ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সংঘর্ষে জড়িত থাকার সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে।

সংঘর্ষের ঘটনা ও আহতদের তালিকা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ৯টার দিকে লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া বাজারে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এটি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। আহতদের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পুতুলের সমর্থকরা হলেন ওয়ালিয়া গ্রামের তৈইজাল (৪৬ বছর), কাজল (২৪ বছর) এবং ছাব্বির (১৯ বছর)। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী টিপুর সমর্থকদের মধ্যে আহতরা হলেন বিজয় আমিন (২৮ বছর), আউলিয়া (৫৫ বছর), আহমেদ (৩০ বছর) এবং ইমরান হোসেন (২৭ বছর)। সকল আহতকে লালপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ

একই সময়ে, লালপুর উপজেলার পাইপাড়া গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থী টিপুর সমর্থক আব্দুল মান্নানের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের একটি পৃথক ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান দাবি করেন, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিএনপির লোকজন একটি মিছিল নিয়ে তার বাড়ির সামনে ব্যান্ড বাজিয়ে নাচানাচি শুরু করে। পরে তারা বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিভানো সম্ভব হয়েছে, তবে সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পুলিশের তৎপরতা ও আটক

সংঘর্ষের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রোববার সকালে লালপুর থানার ওসি মজিবর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, সংঘর্ষে জড়িত থাকার সন্দেহে সোহাগ ও হাবিবুর নামের দুজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, "পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

বিরোধী পক্ষের পাল্টা অভিযোগ

স্বতন্ত্র প্রার্থী টিপু রোববার দুপুরে একটি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন যে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থকরা নারীসহ শতাধিক নেতাকর্মীকে মারধর করেছে এবং অনেকেই এখনও হাসপাতালে রয়েছেন। তিনি পাইপাড়া গ্রামের অগ্নিসংযোগের ঘটনাটিও উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হারুনার রশিদ পাপ্পু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, "টিপুর লোকেরা বিভিন্ন স্থানে বিএনপির লোকেদের মারধর করছে। ওয়ালিয়ায় আমাদের তিনজন কর্মীকে মারধর করেছে। পাইপাড়ার ঘটনাটিও মিথ্যা এবং সাজানো। এসব ঘটনার জন্য টিপুর লোকজন দায়ী।"

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নির্বাচন-পরবর্তী এই সহিংসতা এলাকায় উত্তেজনা তৈরি করেছে। পুলিশ অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে চলেছে এবং আরও ঘটনা রোধে নজরদারি বাড়িয়েছে।