নাটোর-৩ আসনে জামানত বাজেয়াপ্তের ঘটনা: এস এম জার্জিস কাদিরের নির্বাচনী ফলাফল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একমাত্র প্রার্থী এস এম জার্জিস কাদিরের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। দলটির জেলা সদস্যসচিব হিসেবে তিনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষে শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে, মোট প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশের কম ভোট পাওয়ায় তাঁর জামানত হারানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ভোটের হিসাব ও জামানতের শর্ত
রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফল অনুসারে, নাটোর-৩ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮১টি। জামানত রক্ষার জন্য প্রার্থীদের কমপক্ষে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ বা ২৯ হাজার ১৯৮ ভোট পাওয়া আবশ্যক ছিল। সেখানে এস এম জার্জিস কাদির মাত্র ২০ হাজার ৭০৭ ভোট পেয়েছেন। ফলে, নির্ধারিত ভোটের চেয়ে ৮ হাজার ৪৯১ ভোট কম পাওয়ায় তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অন্যান্য প্রার্থীদের ফলাফল
এ আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাদের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আশীক ইকবাল লাঙ্গল প্রতীকে ২ হাজার ১১৯ ভোট পেয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খলিলুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে ১৯ হাজার ১০৫ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ৩৭২ ভোট পেয়েছেন। এই তিন প্রার্থীও জামানত হারাচ্ছেন, কারণ তারা নির্ধারিত ভোটের ন্যূনতম শর্ত পূরণ করতে পারেননি।
বিজয়ী প্রার্থী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা
নাটোর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দাউদার মাহমুদ, যিনি ৬৬ হাজার ৪৯২ ভোট পেয়েছেন। এই ফলাফলটি আসলে বিএনপির প্রাধান্য এবং জোটের অন্যান্য দলের দুর্বল অবস্থানকেই তুলে ধরেছে।
নাটোর জেলায় জামানত বাজেয়াপ্তের সার্বিক চিত্র
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, নাটোর জেলার চারটি আসনে নির্ধারিত ভোট না পাওয়ায় মোট ১৫ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাচ্ছে। জেলায় মোট প্রার্থী ছিলেন ২৭ জন, যা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ভোটার সমর্থনের একটি বৈচিত্র্যময় চিত্র উপস্থাপন করে। এই ঘটনাটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে অনেক প্রার্থীই জামানত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
