ইরাকে অস্ত্র জমার ঘোষণা দিল দুটি শক্তিশালী মিলিশিয়া
ইরাকে অস্ত্র জমা দিচ্ছে দুটি ইরানপন্থি মিলিশিয়া

ইরাকের সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠী সরকারের কাছে অস্ত্র জমা দেওয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির নতুন সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনভাবে কাজ করা মিলিশিয়া বাহিনীকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার যে প্রচেষ্টা চলছে, সে ক্ষেত্রে এই ঘোষণাকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অস্ত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু

নামমাত্র রাষ্ট্রীয় কমান্ডের অধীনে থাকলেও এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এতদিন নিজেদের সিদ্ধান্তেই পরিচালিত হতো। এর মধ্যে আসাইব আহল আল-হক নামের একটি গোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা এই প্রক্রিয়াটি তদারকি করতে, তাদের যোদ্ধা, অস্ত্র ও সরঞ্জামের তালিকা তৈরি করতে এবং ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের সঙ্গে সমন্বয় করতে একটি কমিটি গঠন করেছে।

ইরাকের শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এবং ইরাকি রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকারী পার্লামেন্টের বৃহত্তম জোট ইরানপন্থি কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক-এর আহ্বানের সাড়া দিয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দ্বিতীয় গোষ্ঠী ইমাম আলী ব্রিগেডও একই ধরনের ঘোষণা দিয়ে বলেছে, পূর্ণ সার্বভৌমত্বসহ একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের সময় এসেছে। তাদের লক্ষ্য এখন কেবল রাষ্ট্রের হাতেই অস্ত্র রাখা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করা।

পটভূমি ও কারণ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ শুরু হয়, তা ইরাকের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভঙ্গুরতা এবং ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখার সীমিত সক্ষমতাকে সামনে এনেছে। ওয়াশিংটন ও মিলিশিয়াদের মধ্যকার সমান্তরাল সংঘাত এই সংকটকে আরও গভীর করেছিল। এপ্রিল মাসে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে এই উপদলগুলো ইরানের আঞ্চলিক অভিযানের অংশ হিসেবে ইরাকে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে একের পর এক হামলা চালিয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এক সপ্তাহ আগে প্রভাবশালী শিয়া নেতা মুক্তাদা আল-সদরও জানিয়েছিলেন যে, তার সারায়া আল-সালাম মিলিশিয়া বাহিনী তার রাজনৈতিক আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টা

ওয়াশিংটনের তীব্র চাপের মুখে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। গত মাসে শপথ নেওয়া ৪০ বছর বয়সী এই ব্যাংকার অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে তার কর্মসূচির মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছে যে, ইরানপন্থি উপদলগুলোর প্রভাব রয়েছে এমন কোনও ইরাকি সরকারকে তারা মেনে নেবে না। একই সঙ্গে মিলিশিয়াদের দমনের প্রচেষ্টার সঙ্গে তারা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও অর্থায়নের বিষয়টিকে জুড়ে দিয়েছে।

ইরাকের অনেক ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে অর্থায়ন পায় এবং দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যদিও তারা সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র এবং মিলিশিয়াদের হামলার শিকার হওয়া অন্যান্য দেশের তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। দেশগুলোর দাবি, বাগদাদ এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

অস্ত্র জমা দিতে অস্বীকৃতি কয়েকটি গোষ্ঠীর

ইরাকের কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকটি সশস্ত্র উপদল অবশ্য অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। এর মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহ এবং হারাকাত আল-নুজাবা অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারা এই বিষয়টিকে ইরাকের সার্বভৌমত্ব এবং দেশটিতে বিদেশি সেনা উপস্থিতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করে হাজির করছে।

কাতাইব হিজবুল্লাহ অন্যান্য উপদলের অস্ত্র রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও স্পষ্ট করেছে যে, তাদের নিজস্ব সশস্ত্র তৎপরতা প্রতিরোধমূলক কাজ হিসেবে অব্যাহত থাকবে। গোষ্ঠীটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চ্যানেল আবু মুজাহিদ আল-আসাফ-এ একটি সাম্প্রতিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা অস্ত্র সমর্পণ করার পরিবর্তে আধাসামরিক বাহিনী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস-এর সঙ্গে সমন্বয় করার প্রস্তাব দেবে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে সুন্নি উগ্রপন্থি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-কে মোকাবিলা করার জন্য এই পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস গঠিত হয়েছিল। তারা ওই সময় ইরাকের একটি বিশাল অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল। শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর এই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া ছত্র সংগঠনটির অধীনে থাকা অনেক দলই এখনও তাদের নিজস্ব কমান্ড এবং ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

সূত্র: এপি