রাজশাহী-৫ আসনে নির্বাচনী সহিংসতা: স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক মারধরের শিকার
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার এক উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থককে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যা নির্বাচনী পরিবেশে শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
আহতের বর্ণনায় হামলার বিস্তারিত
আহত আহসান হাবীব জানান, তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক (শিমুল)-এর ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছিলেন। এ কারণেই ধানের শীষের সমর্থকরা তার ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে হাসপাতালে দেখা যায়, তার ডান হাতের দুটি আঙুলে ব্যান্ডেজ করা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।
আহসান হাবীবের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বিড়ালদহ বাজারে কেনাকাটার সময় একই গ্রামের রশিদসহ ১৫–১৬ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ধরেন। হামলাকারীরা তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘শালা, তুই ইসফা খায়রুল হক শিমুলের (ঘোড়া) প্রতীকের ভোট করেছিস, আজ তোকে জানে মেরে ফেলব।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, রশিদের নির্দেশে তার ছেলে রাসেল লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। মাথা বাঁচাতে গেলে ডান হাতের মাঝের দুটি আঙুল ভেঙে যায়।
হামলার ধারাবাহিকতা ও উদ্ধার
এ সময় আজাদ, শাকিল, মারুফ, লাল্টু, ইমনসহ আরও কয়েকজন লাঠি, রড ও হকিস্টিক দিয়ে মারধর চালিয়ে যান। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে একটি চালের দোকানে আশ্রয় নিতে গেলে সেখানেও তাকে ফেলে পেটানো হয় বলে তিনি দাবি করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপিস্টালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্ত রাসেলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি, যা ঘটনার তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পুলিশের অবস্থান
এ বিষয়ে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ও রাজশাহী জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার রহমান বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম এ ধরনের সহিংসতার বিরোধী। তিনি সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পক্ষের মানুষ। তিনি এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার কথা শুনেছেন তবে এ বিষয়ে এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তিনি উল্লেখ করেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার তদন্তে প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রোধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
