শেরপুর-১ আসনে নির্বাচনী অনিয়মের তীব্র অভিযোগ: ডা. প্রিয়াংকার সম্মান ক্ষুণ্নের দাবি
শেরপুর-১ (সদর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত বিএনপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের সামনে দাবি তুলে ধরেন যে, নির্বাচনে নানা অনিয়মের মাধ্যমে তার সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে এবং ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং চালানো হয়েছে।
প্রিয়াংকার অভিযোগের মূল বক্তব্য
ডা. প্রিয়াংকা অভিযোগ করেন, ‘আমার সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে এবং রিজিক টান দেওয়া হয়েছে’। তিনি বলেন, গোয়েন্দা টিম ও ডিজিএফআই পাঠিয়ে তদন্ত করলে দেখা যাবে কীভাবে তার ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ ছিল না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ
প্রিয়াংকা আরও উল্লেখ করেন, জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি বা কেটে দিয়েছেন। ইউএনওকে জানালে স্ট্রাইকিং ফোর্স পাঠানো হলেও ১০–১৫ মিনিটের মধ্যে তারা চলে গেলে প্রতিপক্ষ পুনরায় একই কাজ চালিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার মানুষগুলো যে কী পরিমাণ জখম হয়েছে, সব আমার ফোনে ভিডিও রেকর্ড আছে, আমি আপনাদের দেখাব’।
২০১৮ সালের নির্বাচনের স্মৃতি ও বর্তমান পরিস্থিতি
ধানের শীষের প্রতীকে শেরপুরে দুইবার নির্বাচন করা প্রিয়াংকা বলেন, ২০১৮ সালে যখন তিনি প্রথম নির্বাচন করেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৫ বছর এবং তার বাবা তখন জেলে ছিলেন। তিনি দাবি করেন, ‘সার্ভে করলে দেখা যাবে আমি ভীষণ জনপ্রিয়। সারা দেশের মানুষ আমার জন্য কাঁদছে’। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার অভিযোগ করেন তিনি, যেখানে তার গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছিল এবং তার মা ও ভাইকে রক্তাক্ত করা হয়েছিল।
ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং ও আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা
ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রসঙ্গ তুলে প্রিয়াংকা বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে তো আমরা এই বাংলাদেশ চায়নি যে একটা প্রার্থী ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করবে পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে’। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এই বিষয়টি নিয়ে তিনি অবশ্যই আদালতে যাবেন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তার মতে, প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার এই পদ্ধতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা। ডা. প্রিয়াংকার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।
