ঢাকা-৮ আসনে শপথ স্থগিতের আবেদন: নাসীরুদ্দীনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ
ঢাকা-৮ আসনে শপথ স্থগিতের আবেদন, নাসীরুদ্দীনের অভিযোগ

ঢাকা-৮ আসনে শপথ স্থগিতের আবেদন: নাসীরুদ্দীনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে ভোট কারচুপি, অনিয়ম ও বেআইনি প্রভাব বিস্তারের প্রমাণ থাকার দাবি করে এ আসনের শপথ বিরত রাখার জন্য আবেদন জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের পক্ষে শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লেখা এই আবেদনটি তার পক্ষে আজ নির্বাচন কমিশনে জমা দেন এনসিপি নেতা কাজী ফখরুল ইসলাম।

আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিবরণ

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার আবেদনে ১১ দফায় ১২টি কেন্দ্রের অনিয়মের তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ঢাকা-৮ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ও তার নেতা-কর্মী, এজেন্ট, পরিবারের সদস্যরা ভোট রিগিং, প্রভাব বিস্তার, ফলাফল আটকে রাখা, বাতিলকৃত ভোট গণনাভুক্ত করাসহ নানাবিধ নির্বাচনি অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন।

এছাড়া, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার এবং আসনের রিটার্নিং অফিসারও নির্বাচনি অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন বলে তার দাবি। নাসীরুদ্দীন আরও বলেন, ভোট কারচুপি ও অনিয়মের মাধ্যমে তাকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা না করে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি চিঠির মাধ্যমে কারচুপি ও অনিয়মের বিষয় নির্বাচন কমিশনের নজরে এনেছেন এবং আইন ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের প্রেক্ষাপট

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল ঢাকা-৮ আসন। গত বৃহস্পতিবারের (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটে এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ৫৭ হাজার ৯২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাপলা কলি প্রতীকের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পান ৫১ হাজার ৩৯৬ ভোট। এই ফলাফলের পরই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তুলে ধরেন।

নির্বাচন কমিশন এখন এই আবেদনটি পর্যালোচনা করবে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনা ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনি সংশোধন ও জবাবদিহিতার দাবি জোরালো করতে পারে।