চাঁদপুর-৪ আসনে ভোট পুনঃগণনার দাবি, ধানের শীষ প্রার্থীর অভিযোগ
চাঁদপুর-৪ আসনে ভোট পুনঃগণনার দাবি, ধানের শীষ প্রার্থীর অভিযোগ

চাঁদপুর-৪ আসনে নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ, ভোট পুনঃগণনার দাবি

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ ভোট পুনরায় গণনা এবং পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ফরিদগঞ্জের রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।

কারচুপি ও জাল ভোটের অভিযোগ

হারুনুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কারচুপি ও জাল ভোটের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কয়েকটি কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয় এবং কেন্দ্র দখল করে বিপুল পরিমাণ জাল ভোট দেওয়া হয়। এই অনিয়মের ফলে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নির্বাচন কমিশনের কাছে তদন্তের আহ্বান

প্রার্থী হারুনুর রশিদ নির্বাচন কমিশনের কাছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নিরপেক্ষ তদন্ত দল গঠনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করারও অনুরোধ করেন। তার মতে, ফল পুনঃগণনার মাধ্যমে প্রকৃত ফলাফল প্রকাশ করা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পদক্ষেপ নিলে ভোটারদের আস্থা ফিরে আসবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে।

সহিংসতা ও নিরাপত্তার উদ্বেগ

সংবাদ সম্মেলনে হারুনুর রশিদ আরও অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার পর তার দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তিনি ফরিদগঞ্জে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তার মতে, এই সহিংসতা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।

নির্বাচনী ফলাফলের পরিসংখ্যান

উল্লেখ্য, চাঁদপুর-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশিদ ৬৯ হাজার ১৫৫ ভোট পান। অন্যদিকে, চিংড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি বিদ্রোহী) এম এ হান্নান ৭৪ হাজার ১৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। ভোটের ব্যবধান প্রায় ৫ হাজার হলেও হারুনুর রশিদের মতে, জাল ভোট ও কারচুপির কারণে এই ফলাফল সঠিক নয়।

এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্কতা জারি করেছে বলে জানা গেছে। হারুনুর রশিদের এই দাবি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে এবং ভবিষ্যতে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।