ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির আমিনুল হক ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলে পুনর্গণনার দাবি জানালেন
আমিনুল হক ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং অভিযোগ করে পুনর্গণনা চাইলেন

ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হক ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তীব্র অভিযোগ তুলেছেন

ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক নির্বাচনে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে তার পরাজয় ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পল্লবীতে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ উত্থাপন করেন এবং নির্বাচন কমিশনকে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানান। আমিনুল হক সতর্ক করেছেন যে, এই দাবি না মানলে তিনি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করবেন।

সরকারের বিশেষ সুবিধা ও নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ

আমিনুল হক তার বক্তব্যে দাবি করেন যে, সরকার একটি নির্দিষ্ট দলকে ঢাকা শহরের আসনগুলোতে বিশেষ সুবিধা প্রদানের চেষ্টা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত ছিল, কিন্তু কিছু কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, তিনি প্রিজাইডিং অফিসারদের বিরুদ্ধে সিল মেরে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, ১১ তারিখ রাতে জামায়াতের প্রার্থী ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রিজাইডিং অফিসারের রুমে গিয়েছে।

ভোট ফলাফলে ইঞ্জিনিয়ারিং ও স্বাক্ষরহীনতার অভিযোগ

আমিনুল হক আরও অভিযোগ করেন যে, কিছু কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে, যেখানে ফলাফল সিটে এজেন্টদের স্বাক্ষরও নেই। তিনি বলেন, এই অনিয়মগুলো তার পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে কাজ করেছে। ঢাকা-১৬ আসনে নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেন ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, অন্যদিকে আমিনুল হক ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট পেয়েছেন। এই ফলাফলে ৩ হাজার ৩৬১ ভোটের ব্যবধানে আমিনুল হক পরাজিত হয়েছেন।

আমিনুল হকের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

আমিনুল হক তার সংবাদ সম্মেলনে জোর দিয়ে বলেন যে, এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত ভোট পুনর্গণনার আহ্বান জানান এবং সতর্ক করেন যে, যদি তার দাবি উপেক্ষা করা হয়, তাহলে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তার এই অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।