প্রবাসী, কয়েদি ও সরকারি কর্মচারীদের ভোটে রেকর্ড অংশগ্রহণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সরকার প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটের আওতায় আনে। এছাড়াও ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি চাকরিজীবী এবং কারাগারে থাকা বন্দিদেরও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতির মাধ্যমে এই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে ভোট গণনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ভোটার নিবন্ধন ও অংশগ্রহণের পরিসংখ্যান
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনবিষয়ক ওসিভি-এসডিআই প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন ভোটার ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে দেশের বাইরে থেকে সাত লাখ ৬৭ হাজার ২৩৩ জন এবং দেশের ভেতর থেকে সাত লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮ জনের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশন (ইসি) অনুমোদন করে।
নিবন্ধন করা ভোটারদের মধ্য থেকে ১২ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা মূল নিবন্ধনের ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ। ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে প্রবাসী রয়েছেন ৭০ দশমিক ৯৫ শতাংশ, অন্যদিকে কয়েদি ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন ৮৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া
সালীম আহমাদ খান আরও উল্লেখ করেন, পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান শেষে ২৯৯ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তারা ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯২ জন ভোটারের ভোটগ্রহণ করেছেন, যা মূল ভোটদানের ৭৬ দশমিক ২৮ শতাংশ। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার রয়েছেন চার লাখ ৯৮ হাজার ২০৪ জন (৬৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ) এবং দেশের ভেতরের ভোটার রয়েছেন ছয় লাখ ৬৭ হাজার ৩৮৮ জন (৮৭ দশমিক ৭১ শতাংশ)।
রিটার্নিং কর্মকর্তারা পোস্টাল ব্যালটের পাওয়া সকল ভোট যাচাই-বাছাই শেষে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৭ জন ভোটারের ভোট গণনা শুরু করেছে, যা পোস্টাল ব্যালটের মূল ভোটের ৭০ দশমিক ২৫ শতাংশ। এই গণনায় প্রবাসীদের ভোট রয়েছে ৬১ দশমিক ৫২ শতাংশ।
এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যেখানে প্রযুক্তির ব্যবহার করে ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশি, কারাবন্দি এবং নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মচারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার এই প্রচেষ্টা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলেছে।
