পটুয়াখালী-১ আসনে নির্বাচন স্থগিতের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের আবেদন
পটুয়াখালী-১ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ তুলে নির্বাচন অবিলম্বে স্থগিতের দাবি জানিয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব মিনা।
অভিযোগের মূল বিবরণ
লিখিত অভিযোগে মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব মিনা উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা বিভিন্নভাবে নির্বাচনি পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ভোটের আগের রাত থেকে শুরু করে ভোটের দিন পর্যন্ত তার কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, মারধর, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এতে অনেক কর্মী নিরাপত্তার অভাবে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। আবেদনে আরও বলা হয়, ভোটের দিন সকালে একাধিক কেন্দ্রে তার নিযুক্ত পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্র দখল ও ভোটারদের ওপর চাপ
কোথাও কোথাও জোরপূর্বক ভোটকেন্দ্র দখল, সাধারণ ভোটারদের লাইনে দাঁড়াতে না দেওয়া এবং নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। কয়েকটি কেন্দ্রে তার পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আরও অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনের কিছু সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তারা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন না করায় ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এর ফলে পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
স্থগিত ও পুনঃনির্বাচনের দাবি
আবেদনে বলা হয়, এ ধরনের অনিয়মের কারণে নির্বাচনের ফলাফল প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটাবে না। তাই পটুয়াখালী-১ আসনের নির্বাচন অবিলম্বে স্থগিত করে নিরপেক্ষ পরিবেশে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পটুয়াখালী থেকে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়েছে।
