ঢাকার বছিলা পুরাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সময় বাড়ানো
ঢাকার বছিলা পুরাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এক ঘণ্টা বেশি সময় ধরে চালানো হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের কথা বিবেচনা করে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ভোট নেওয়া হয়েছে। সাড়ে পাঁচটার পরেও কেন্দ্রে কয়েকজন ভোটারকে লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে, যা এই কেন্দ্রের উচ্চ ভোটার উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ও কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা
বিকেল ৫ টা ১০ মিনিটের দিকে কেন্দ্র পরিদর্শনকালে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়, যেখানে প্রায় ৫০ জনের বেশি নারী ভোটের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। এই কেন্দ্রটি বিশেষভাবে নারীদের জন্য নির্ধারিত হওয়ায়, শুধুমাত্র নারীরাই এখানে ভোট দিতে পারছিলেন। স্কুলটির দ্বিতীয় তলায় নারীরা ভোট দিতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছিলেন, যা কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সময় ভোটগ্রহণ চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
বছিলা পুরাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সাওকাত হোসাইন জানান, "সকাল থেকেই এই কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি অনেক বেশি ছিল। নির্ধারিত সময়ের পরেও লাইনে ভোটার থাকায় তাঁদের ভোট নিচ্ছি। নতুন করে কাউকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
ভোটের হার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৮৩২ জন, এবং বেলা ৩টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১ হাজার ৭৫০টি, যা ভোটের হার ৪৫.৬% নির্দেশ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রেখেছেন, নতুন ভোটারদের লাইনে ঢুকতে না দেওয়া হলেও, যারা আগে থেকেই দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের ভোট নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের চারপাশ ফাঁকা হওয়া সত্ত্বেও, এই ব্যবস্থাপনা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়ক হয়েছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনকারীরা লক্ষ্য করেন, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, এবং ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ ও ধৈর্য দেখা গেছে। এই ঘটনা ঢাকার অন্যান্য কেন্দ্রগুলোর তুলনায় বছিলা বিদ্যালয় কেন্দ্রের অনন্য চ্যালেঞ্জ ও সাফল্যকে তুলে ধরে, যা স্থানীয় নির্বাচনী ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
