১০৭ বছর বয়সে ভোট দিলেন ধীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বরইহাটি গ্রামের বাসিন্দা ধীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের বয়স ১০৭ বছর। তিনি গোপালপুর পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বের হয়ে বলেন, 'এখন বয়স হয়েছে। কখন মারা যাই বলা যায় না, হয়তো এটা জীবনের শেষ ভোট হতে পারে। তাই ভোট দিতে আসলাম। এলাকার মানুষজনকে সাথে নিয়ে আসছি।'
ব্রিটিশ আমল থেকে ভোটের সাক্ষী
ধীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, 'আমি ব্রিটিশ আমল দেখেছি। তখন ভোট ছিল না। তাই দিতে পারি নাই। পাকিস্তান আমল থেকেই ভোট দেওয়া শুরু করেছি। এরপর থেকে সব নির্বাচনে ভোট দিয়ে আসছি। এবার ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।' তিনি ওই গ্রামের পূর্ণচন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে।
ভোট কেন্দ্রের পরিসংখ্যান
ওই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৮৭০ জন। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে ১৮ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হৃতিক হাসান, যিনি টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক।
অন্য প্রবীণ ভোটারদের কথা
ওই ইউনিয়নের তিনজন প্রবীণ ব্যক্তির মধ্যে অপর ব্যক্তি হলেন সাধন বিশ্বাস (৮০)। তিনি বলেন, 'আমরা সব সময় আওয়ামী লীগে ভোট দিয়ে আসছি, এবার আওয়ামী লীগ নেই, তবুও ভোট দিতে আসছি। আমরা চাই যাতে আওয়ামী লীগ বেঁচে থাকতে পারে।'
গণভোট সম্পর্কে সাধন বিশ্বাস বলেন, 'মানুষের মুখে হ্যা-না ভোটের কথা শুনেছি। এতে কি হবে বলতে পারিনা। কিন্তু ভোট দিয়ে আসছি।'
ভোট কেন্দ্রে উৎসবের আমেজ
বেলা পৌনে ১২টায় ওই কেন্দ্রে গিয়ে লোকসমাগম চোখে পড়ে। ভোট কেন্দ্রের পাশেই বিভিন্ন প্রকারের খাবারের দোকানের পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা। সবার মধ্যে একটি উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
বাদাম বিক্রেতা সরোজ বিশ্বাস বলেন, 'ভোট মানে আমাদের কাছে উৎসব। ভোটার ছাড়াও এলাকার বিভিন্ন বয়সি লোক আসে, বেচা-বিক্রি ভালো হচ্ছে।'
প্রথমবারের মতো ভোটদান
এবারই প্রথম ভোট দিয়েছে গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী, গোপালপুর গ্রামের নবনীতা ধর। তিনি বলেন, 'প্রত্যাশিত প্রতীক না থাকায় প্রথমে একটু মন খারাপ হয়েছিল। তারপরও ভোট দিতে পেরে আমি খুব খুশি।'
এই ভোটদানের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকার বিভিন্ন প্রজন্মের ভোটারদের অংশগ্রহণ ও অনুভূতি ফুটে উঠেছে।
