কুমিল্লা-৪ আসনে ভোট বর্জনের ঘোষণা গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিন (ট্রাক প্রতীক)। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিকাল ৫টার দিকে ফেসবুক লাইভে তিনি এ ঘোষণা দেন।
অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
ফেসবুক লাইভে জসিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে তার এজেন্টদের প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং অনেক কেন্দ্র থেকে তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "এ ছাড়া সাধারণ ভোটারদের ভোট দানে বাধা ও নির্দিষ্ট প্রতীকে সিল মারার অভিযোগ পেয়েছি। এটি প্রহসনের নির্বাচন। এজন্য বর্জন করলাম।"
এ বিষয়ে জানতে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিনকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি বলে জানা গেছে।
প্রার্থীদের অবস্থান
আসনটিতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। অন্যদিকে, ঋণখেলাপির অভিযোগে প্রার্থিতা হারান বিএনপির নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। উল্লেখ্য, গত ৪ ফেব্রুয়ারি গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিনকে সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি।
পটভূমি ও আইনি লড়াই
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতরে যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়ন বৈধ হয়।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে ‘বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন’—নির্বাচন কমিশনে এমন অভিযোগে আপিল করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এতে শুনানিতে প্রার্থিতা হারান মুন্সী।
এরপর হাইকোর্ট রিট এবং সর্বশেষ প্রার্থিতা ফিরে পেতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করলেও সেটিও ১ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। এতে আর নির্বাচন করতে পারছেন না মঞ্জুরুল মুন্সী।
এই পরিস্থিতিতে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর ভোট বর্জনের ঘোষণা আসনটির নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
