৭৫ বছর বয়সে দেড় কিলোমিটার পথ হেঁটে ভোট দিলেন ফজলুল হক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিনে সারাদেশে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছ বেপারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক অনন্য দৃশ্য দেখা গেছে। সেখানে ৭৫ বছর বয়সি ফজলুল হক ভাটু দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ভোট দিতে এসেছেন, যা ভোটারদের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
বয়সের ভার উপেক্ষা করে ভোটাধিকার প্রয়োগ
ফজলুল হক ভাটু ভট্টোপাড়া এলাকা থেকে হেঁটে কেন্দ্রে পৌঁছান। তার ডান হাতে একটি লাঠি ছিল এবং পাশে এক প্রতিবেশীর কাঁধে ভর করে তিনি এগিয়ে চলেন। বয়সের ভার ও শারীরিক দুর্বলতা তাকে থামাতে পারেনি। তিনি ধীরে ধীরে হেঁটে কেন্দ্রে পৌঁছে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন, এরপর ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভোটকক্ষে প্রবেশ করে নিজের ভোটাধিকার সফলভাবে প্রয়োগ করেন।
ভোট দেওয়া শেষে ফজলুল হক বলেন, "কষ্ট হয়, তবুও ভোট না দিলে মন শান্তি পায় না। যতদিন পারি, ভোট দেব।" তার এই উক্তি গণতন্ত্রের প্রতি তার গভীর আস্থা ও দায়বদ্ধতা প্রকাশ করে।
বয়স্ক ভোটারদের জন্য বিশেষ সহায়তা
বেপারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ১৬ জন। প্রিজাইডিং অফিসার রাজু আহমেদ জানান, বয়স্ক ভোটারদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা রাখা হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা সকল ভোটার, বিশেষ করে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি, যাতে তারা সহজেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।"
সকাল থেকে কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ক্রমাগত বাড়ছিল। ফজলুল হকের মতো ভোটাররা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মৌলিক নীতিকে শক্তিশালী করছেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উৎসাহময় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফজলুল হকের মতো ব্যক্তিদের অবদান নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
