ময়মনসিংহে একই পরিবারের তিন নারীর একসঙ্গে ভোটদান: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের উজ্জ্বল দৃশ্য
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনে একটি অনন্য দৃশ্য দেখা গেছে, যেখানে একই পরিবারের তিন প্রজন্মের নারী—মা, মেয়ে ও দাদী—একসঙ্গে ভোট দিতে এসেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় মহাকালি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে তারা লাইনে দাঁড়িয়ে একে একে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
প্রথমবার ভোটদানে উদ্বেলিত ইসরাত জাহান সিঁথি
ময়মনসিংহ নগরীর দূর্গাবাড়ি বাইলেনের বাসিন্দা ইসরাত জাহান সিঁথি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী। তিনি গত ১০ ফেব্রুয়ারি শুধুমাত্র ভোট দিতে রাজশাহী থেকে নিজ বাড়িতে ছুটে আসেন। প্রথমবার ভোট দিতে পেরে তিনি আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবারই প্রথম ভোট দিলাম। বেশ আমেজ এবং উৎসব উৎসব ভাব। ভালো লাগছে। কে জিতবে কে হারবে, জানিনা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে এটুকুই জানি। তবে ভোট দিতে পেরে অনেক ভালো লেগেছে।’
ইসরাত আরও উল্লেখ করেন যে তিনি নতুন প্রজন্মের আরও ভোটার চাচাতো ভাই-বোনদের নিয়ে এসেছেন, এবং তার মা ও দাদীও একসঙ্গে ভোট দিতে অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আগের নির্বাচনে ভোটার হয়েছি কিন্তু গোলযোগের আশঙ্কা আর তৎকালীন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভোট দেওয়া হয়নি।’ এবারের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তাকে উৎসাহিত করেছে।
দীর্ঘদিন পর ভোটদানে খুশি আশির্ধ্বো দাদী হোসনে আরা বেগম
আশির্ধ্বো হোসনে আরা বেগম তার নাতী ইসরাত ও মেয়ে মাহফুজা আক্তারের কাঁধে ভর দিয়ে ভোট কক্ষে প্রবেশ করেন এবং নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে হাসিমুখে ফিরে আসেন। তিনি সাংবাদিকদের ভাঙা স্বরে জানান, ‘অনেক দিন ভোট দেইনা, তাই এবার ভোট দিতে পেরে আমি অনেক খুশি।’ তার এই অংশগ্রহণ পরিবারের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
মা মাহফুজা আক্তারের অনুভূতি: একটি সৌভাগ্যের মুহূর্ত
ইসরাতের মা মাহফুজা আক্তার তার শ্বাশুড়ি ও মেয়েকে নিয়ে ভোট দিতে পেরে দারুণ খুশি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এমন সৌভাগ্য ক'জনের হয়। এবার একসঙ্গে ভোট দিতে পেরে অনুভূতিটাই অন্য রকম।’ তিনি ভোটের পরিবেশকে খুব ভালো বলে মন্তব্য করেন, যা একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সফলতা নির্দেশ করে।
এই ঘটনা ময়মনসিংহে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ, যেখানে নারীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করছেন। ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ সকল ভোটারকে উদ্বুদ্ধ করেছে, এবং এটি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
