নাঙ্গলকোটে নির্বাচন কেন্দ্রে জালভোট ও মারধরের ঘটনায় উত্তেজনা
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক কেন্দ্রে জালভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জামায়াতের এক পোলিং এজেন্টকে মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় বেলা ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যার ফলে নির্বাচন কেন্দ্রে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ
নাঙ্গলকোটের জোড্ডা পশ্চিম ইউনিয়নের মান্দ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১নং কক্ষে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রবেশ করে ধানের শীষে জালভোট দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতের পোলিং এজেন্ট মো. ইয়াছিন মজুমদার এই অবৈধ কার্যকলাপে বাধা দিলে তাকে টেনে-হিঁচড়ে কেন্দ্রের বাইরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়।
ইয়াছিন মজুমদার সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, "বিএনপির নেতাকর্মীরা অবৈধভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে ধানের শীষ ও গণভোটে 'না' সিল মারতে থাকে। আমি বাধা দিলে আমাকে টেনে হিঁচড়ে বের করে এনে অতর্কিতভাবে মারধর করে। পরে আমার পাড়া-প্রতিবেশীরা আমাকে উদ্ধার করে।"
কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
ঘটনাস্থলের প্রিসাইডিং অফিসার মাহমুদ রেজা জানান, তিনি পাশের একটি কক্ষে থাকা অবস্থায় কয়েকজন লোক কক্ষে প্রবেশ করে জালভোট দেয়। তিনি বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সেনাবাহিনীকে অবগত করেন। সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই ঘটনার পর প্রায় ২০ মিনিট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতিতে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা লিজা আক্তার বিথী বলেন, "আমি বিষয়টি জেনেছি, খবর নিয়ে দেখছি।"
নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপ
খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে আরও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে। তবে এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচনী সহিংসতা ও জালভোটের মতো ঘটনা বাংলাদেশের বিভিন্ন নির্বাচনে মাঝেমধ্যে দেখা গেলেও কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এই বিশেষ ঘটনাটি নাঙ্গলকোট এলাকায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
