মুন্সীগঞ্জে ১৩৫ বছর বয়সী আমেনা বেগম ছেলের কোলে চড়ে ভোট দিলেন
১৩৫ বছর বয়সী আমেনা বেগম ছেলের কোলে চড়ে ভোট দিলেন

মুন্সীগঞ্জে ১৩৫ বছর বয়সী আমেনা বেগম ছেলের কোলে চড়ে ভোট দিলেন

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা গেছে বৃহস্পতিবার সকালে। আমেনা বেগম নামের এক প্রবীণ নারী ছেলের কোলে চড়ে ভোটকেন্দ্রে এসে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি অনুযায়ী, তার বয়স প্রায় ১৩৫ বছর। এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং গণতান্ত্রিক চেতনার এক জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

ছেলের কোলে চড়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন আমেনা বেগম। তিনি দক্ষিণ জামালপুর গ্রামের বাসিন্দা। বয়সজনিত কারণে হাঁটতে অক্ষম হওয়ায় তার ছেলে শামসুল হক ঢালী তাকে কোলে করে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসেন। এই দৃশ্য দেখে কেন্দ্রে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

ভোট দেওয়ার পর আমেনা বেগম বলেন, "আমার শরীরটা ভালো না। ছেলেরে কইছি, ভোটের দিন আমারে লইয়া যাইবা—আমি ভোট দিমু। হাঁটতে পারি না, তাই কোলে কইরা আনছে। আমি যারে ভালো পাই, তারেই ভোট দিছি। ভোট দিয়া ভালো লাগতেছে।" তার কথায় ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রতি গভীর আগ্রহ ও দায়বদ্ধতা ফুটে উঠেছে।

পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য

ছেলে শামসুল হক ঢালী জানান, তার মা নিজে থেকেই ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, "তিনি হাঁটতে পারেন না। বয়স অনেক হয়েছে। তাই কোলে করে নিয়ে এসেছি। ভোট দিতে পেরে মা খুব খুশি।" এই ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা গর্ববোধ করছেন এবং আমেনা বেগমের দৃঢ় মনোবলকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, আমেনা বেগমের সঠিক বয়স জানা না গেলেও তিনি এলাকার সবচেয়ে প্রবীণ নারী হিসেবে পরিচিত। "তাকে ছেলের কোলে করে ভোট দিতে আসতে দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হন। কেন্দ্রে এ সময় উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবিও ধারণ করেন।" স্থানীয়দের মতে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ গণতান্ত্রিক চেতনারই এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ।

এই ঘটনা মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভোটকেন্দ্রে আমেনা বেগমের উপস্থিতি শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং গণতন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের অটুট আস্থা ও দায়বদ্ধতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। প্রবীণ নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এই ঘটনা একটি অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।