নাতির কোলে চড়ে ছেলেকে ভোট দিলেন শতবর্ষী সূর্যবানু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শতবর্ষী নারী সূর্যবানু। ১১০ বছর বয়সে শারীরিক দুর্বলতা উপেক্ষা করে তিনি নাতি সুলাইমানের কোলে চড়ে ভোটকেন্দ্রে হাজির হন এবং নিজের ছেলে বিএনপির প্রার্থী মো. মজিবুর রহমানকে ভোট দেন। বৃহস্পতিবার সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার লতিফপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তার এই উপস্থিতি সবার নজর কেড়ে নেয়।
ভোটকেন্দ্রে অনুপ্রেরণার উৎস
সকাল সাড়ে সাতটায় ভোট শুরু হওয়ার পরপরই ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন। এর মধ্যেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বয়সের ভারে জড়িত কিন্তু চোখ-মুখে উজ্জ্বলতা নিয়ে উপস্থিত সূর্যবানু। নাতির কোল থেকে নেমে তিনি ভোটদান বুথে প্রবেশ করেন এবং কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে এসে ছেলের জন্য দোয়া করেন। বয়সের ভারে জড়িয়ে যাওয়া কণ্ঠে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আল্লাহ যেন আমার ছেলেকে ভালো রাখে। দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে পারে।"
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, কেন্দ্রে প্রবেশের সময় ভোটার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে সহযোগিতা করেন। সূর্যবানুর উপস্থিতি কেন্দ্রে একটি অন্যরকম আবহ তৈরি করে। অনেকেই এগিয়ে এসে তাকে সালাম দেন এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
তরুণ ভোটারদের অনুপ্রাণিত করলেন
শতবর্ষী এই নারীর দায়িত্ববোধ তরুণ ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে। কালিয়াকৈরের বাসিন্দা আকরাম হোসেন বলেন, "এত বয়স্ক ভোটার খুব কমই দেখা যায়। সূর্যবানুর মতো একজন প্রবীণ নারী ভোট দিতে এসে সবার মাঝে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।"
লতিফপুর মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে তরুণ ভোটার সুখপ্রীতা হেরা জানান, "ভোট দিতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। নিজেকে দায়িত্ববান মনে করছি।" তার মতে, সূর্যবানুর মতো প্রবীণ ব্যক্তিরা যখন ভোটদানে এগিয়ে আসেন, তখন তরুণদেরও কর্তব্য পালনে উৎসাহিত হওয়া উচিত।
গাজীপুরের নির্বাচনী পরিবেশ
এদিকে গাজীপুরের পাঁচটি আসনে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সূর্যবানুর ছেলে মো. মজিবুর রহমান গাজীপুর-১ (কালিয়াকৈর ও সিটির একাংশ) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। মায়ের এই আগ্রহ ও সমর্থন তার প্রচারণায় একটি বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
ভোটকেন্দ্রে সূর্যবানুর উপস্থিতি শুধু একটি পারিবারিক ঘটনা নয়, বরং এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি জীবন্ত উদাহরণ। বয়স ও শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি যে দায়িত্ববোধ প্রদর্শন করেছেন, তা সকলের জন্য অনুসরণীয়।
