রংপুর-৪ আসনে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ, প্রশাসনের দুর্বলতা নিয়ে তীব্র শঙ্কা
রংপুর-৪ আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন নির্বাচনের মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের কার্যক্রমে মারাত্মক দুর্বলতার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি সুষ্ঠু ভোট ও ফলাফলের নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ফেলছে বলে তিনি মনে করেন।
ভোট কেন্দ্রে সরব অভিযোগ ও উদ্বেগ
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ভায়েরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আখতার হোসেন এই উদ্বেগের কথা স্পষ্টভাবে জানান। তিনি বলেন, প্রশাসনের দুর্বল ভূমিকার মধ্য দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন হলে ভোটের ফলাফল এবং এর গ্রহণযোগ্যতা গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এই সংকট নিরসনে তিনি প্রশাসনকে আজকের দিনের বাকি সময়টুকু সর্বোচ্চ সতর্ক ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে সমস্ত প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করার জোরালো আহ্বান জানান।
নির্বাচনী প্রচারণায় তিক্ত অভিজ্ঞতা ও সহিংসতার ঘটনা
নির্বাচনী প্রচারণার সময়কার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন যে, প্রশাসনের নির্লিপ্ততার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের নারী কর্মীদের হেনস্তা করা হয়েছে এবং তাঁদের দলের নামে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা গুজব রটানো হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, গতকাল বুধবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অনিয়ম দেখা দিয়েছে এবং ১১-দলীয় জোটের শাপলা কলি ও জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, রক্তপাত এবং হুমকি-ধমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও ভোটাররা সমস্ত ভয়ভীতি উপেক্ষা করে শাপলা কলি মার্কায় ভোট দেবেন এবং শেষ পর্যন্ত এই প্রতীকেরই বিজয় হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বিশেষ বার্তা ও জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান
প্রশাসনের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ বার্তা দিয়ে এই প্রার্থী বলেন যে, আপনারা যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারেন, তবে সাধারণ জনগণ সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে এবং সহায়তা করবে। তিনি মনে করেন যে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর একটি পরিবর্তিত ও নতুন রাজনৈতিক পরিবেশে মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলেও গত রাত থেকে শুরু হওয়া সহিংসতা ও অনিয়ম গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে জামায়াত ও এনসিপির কর্মীদের ওপর চালানো শারীরিক আক্রমণ ও ভীতি প্রদর্শন নির্বাচনী ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আখতার হোসেনের মতে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে প্রশাসনকে এখনই তাঁদের নমনীয় অবস্থান পরিহার করে মাঠ পর্যায়ে দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি পুনরায় হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি প্রশাসনের এই শিথিলতা অব্যাহত থাকে, তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা সাধারণ মানুষের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।
রংপুর-৪ আসনের প্রতিটি কেন্দ্রে যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে পারেন এবং প্রতিটি বুথে পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
