নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের ভোটদান ও গণভোটের আহ্বান
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোটে তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোট দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এ দিনকে নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভোটদানের সময় ও স্থান
মুহাম্মদ ইউনূস সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছান এবং ১০টা ২৫ মিনিটে ভোট প্রদান করেন। তাঁর পাশে ছিলেন তাঁর মেয়ে দিনা ইউনূস। ভোটগ্রহণ সকাল সাড়ে ৭টায় দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে।
ইউনূসের বক্তব্য: নতুন বাংলাদেশের সূচনা
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আজ নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। এটি আমার জীবনের মহাআনন্দের দিন এবং বাংলাদেশের সবার জন্য মহাআনন্দের দিন। মুক্তির দিন। দুঃস্বপ্নের অবসান, নতুন স্বপ্নের শুরুর দিন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা সারা দিনব্যাপী এই জন্মদিন উৎসব পালন করব। অতীতের দুঃস্বপ্নময় ঘটনাগুলো সম্পূর্ণরূপে বর্জন করলাম। আজ থেকে প্রতিটি পদে নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টির সুযোগ পেলাম।’
গণভোটের গুরুত্ব ও আহ্বান
ইউনূস গণভোটের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, ‘প্রার্থীর জন্য ভোট দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু গণভোটটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারা বাংলাদেশ পাল্টে যাবে। সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি, গণভোটে অংশ নেবার জন্য, যাতে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।’ ভোট দেওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘খুব ভালো লাগল। সবাইকে মোবারকবাদ জানাচ্ছি।’ এ সময় একজন ‘ঈদ মোবারক’ বললে, প্রধান উপদেষ্টাও একই উত্তর দেন।
নির্বাচন ও গণভোটের প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ ভোট দিচ্ছেন দেশের মানুষ। একই সঙ্গে গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানের বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনার প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোট দিয়ে মত জানাচ্ছেন ভোটাররা।
নির্বাচনের পরিসংখ্যান ও অংশগ্রহণ
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি, যার মধ্যে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ভোটার আছেন ৫ কোটির বেশি। মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী। বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফল নির্ধারণে তরুণ ও নারী ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। ২৯৯টি আসনে ইসিতে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন, ফলে দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।
