বগুড়ায় পরিবারের ছয় সদস্যের ভোটদান, চারজনের প্রথমবারের অভিজ্ঞতা
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট দিলেন তরুণ এক ভোটার। ঠনঠনিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, বগুড়া শহর, ১২ ফেব্রুয়ারি। বগুড়া সদর উপজেলার ঠনঠনিয়া নুরুল আলা নুর ফাজিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে একসঙ্গে ভোট দিয়েছেন একই পরিবারের ছয়জন ভোটার। এর মধ্যে চারজনই প্রথমবারের মতো ভোট দিলেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁরা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
প্রথমবারের ভোটারদের অনুভূতি
ভোট দেওয়া ছয়জনের মধ্যে নাইমুর রহমান (২৩), রকিবুল হাসান (২৫), সুমাইয়া আক্তার (২০) ও ওয়ারেকাতুল জান্নাত (২৩) এবার প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছেন। রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাঈমুর রহমান বলেন, ‘জীবনে প্রথমবার ভোটার হয়েছি। নিজের ভোটটা ঠিকমতো দিতে পারব কি না শঙ্কা ছিল। তবে কেন্দ্রে এসে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছি। ভোটের পরিবেশ দেখে আমি মুগ্ধ। যে প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি, পরাজিত হলেও আফসোস করব না। কারণ, ভোট অত্যন্ত ফেয়ার হচ্ছে।’
সরকারি আজিজুল কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ওয়ারিকাতুল জান্নাত বলেন, ‘জীবনে প্রথমবার ভোট দিলাম। খুবই এক্সাইটেড। এবার ভোটের পরিবেশ খুবই স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ। ভোট গণতন্ত্রের অলংকার। রাষ্ট্রক্ষমতায় যেই যাক, ভোটের অধিকার হরণ করা উচিত নয়।’
পরিবারের যৌথ ভোটদান ও ভোটের পরিবেশ
রকিবুল হাসান বলেন, ‘আমাদের যৌথ পরিবার। পরিবারের ২০ জন ভোটার একসঙ্গে ভোট দিতে এসেছি। ভোটের পরিবেশ ভালো। নির্ভয়ে ভোট দিলাম। এবারের ভোটে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।’ সুমাইয়া বলেন, ‘ভবিষ্যতেও এমন পরিবেশ আশা করছি।’
ঠনঠনিয়া নুরুল আলা নুর ফাজিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, এখানে মোট ভোটার ৪ হাজার ৯৯ জন। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রথম দুই ঘণ্টায় ৬০০ ভোট পড়েছে।
বগুড়ার নির্বাচনী পরিসংখ্যান
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার ৭টি আসনে মোট ভোটার ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭১ ও নারী ১৫ লাখ ১ হাজার ২৭। পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যা ২০ হাজার ১৫৬, অর্থাৎ ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪২ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৯৮৩টি, ভোটকক্ষ ৫ হাজার ৪৭৮টি।
