নাটোরে বুয়েট শিক্ষার্থীর প্রথম ভোট: ‘নিজেকে সম্মানিত নাগরিক মনে হচ্ছে’
আজ বৃহস্পতিবার সকালে নাটোর শহরের মছিরুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী সাদমান হোসেন। ভোট দেওয়ার পর উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আজ নিজেকে সম্মানিত নাগরিক মনে হচ্ছে। দেশের নেতা নির্বাচনে আমার সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ।’ এই অভিজ্ঞতাকে তিনি ‘অসাধারণ’ বলে বর্ণনা করেন।
ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি ও উত্তেজনা
সাদমান হোসেন জানান, জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার জন্য তিনি ঢাকা থেকে বাসে কষ্ট করে নাটোরে এসেছেন। প্রথম ভোট দেওয়ার উত্তেজনায় তিনি নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। সকাল পৌনে আটটার দিকে তিনি বাবার সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে আসেন এবং অন্য ভোটারদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন।
ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া ও অনুভূতি
ভোটার তালিকায় নিজের ছবি দেখে সাদমানের খুব ভালো লেগেছে। তিনি ব্যালট পেপার ভাঁজ করার নিয়ম শিখে নিয়ে গোপন কক্ষে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। সরাসরি বুথে ঢোকার সুযোগ থাকলেও তিনি লাইনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, যা তাঁর কাছে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক।
স্বাধীন সিদ্ধান্ত ও পরিবারের ভূমিকা
নিজের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েই ভোট দিয়েছেন বলে জানান এই শিক্ষার্থী। তাঁর মতে, কেউ তাঁকে ভোট চাননি এবং পরিবারের পক্ষ থেকেও নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীকে ভোট দিতে বলা হয়নি। এটি তাঁর ব্যক্তিগত ও স্বাধীন নির্বাচনী সিদ্ধান্তকে প্রতিফলিত করে।
ভোটের গুরুত্ব ও জাতীয় দায়িত্ব
সাদমান হোসেনের মতে, প্রথম ভোট দেওয়া শুধু একটি অধিকার নয়, বরং একটি জাতীয় দায়িত্ব। তিনি বিশ্বাস করেন যে প্রতিটি ভোট দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে দেশের উন্নয়নে আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে অনুপ্রাণিত করেছে।
নাটোর সদর এলাকার এই ভোটকেন্দ্রে অন্যান্য ভোটাররাও উৎসাহের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গণতান্ত্রিক চেতনাকে উজ্জ্বল করে তুলেছে। রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলায় ভোটের এই প্রচার ও অংশগ্রহণ স্থানীয়ভাবে গণতন্ত্রের শক্তিকে প্রদর্শন করছে।
