জীবনের প্রথম ভোট দিলেন বিএনপি জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর
নুরুল হক নুরের জীবনের প্রথম ভোট

জীবনের প্রথম ভোট দিলেন বিএনপি জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ভোট দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে গলাচিপা মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি কক্ষে তিনি তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এটি ছিল তার জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা, যা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।

প্রথম ভোটের অনুভূতি প্রকাশ

ভোট দেওয়া শেষে কেন্দ্রের পরিবেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, "৩৩ বছর বয়সে জাতীয় নির্বাচনে জীবনে এই প্রথম ভোট দিলাম, তাও আবার নিজেই একজন প্রার্থী হিসেবে। আজ প্রথমবার ভোট দিতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে।" তিনি আরও যোগ করেন যে দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষ একটি অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা একটি বড় অর্জন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে দিনশেষে জনগণের রায়ই প্রতিফলিত হবে।

পটুয়াখালীতে নির্বাচনী পরিবেশ

এদিকে পটুয়াখালীর চারটি সংসদীয় আসনে একযোগে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পুরো জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের পরিসংখ্যান

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালী জেলার চারটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৫ লাখ ৯ হাজার ৫৮৯ জন। এই সংখ্যার মধ্যে:

  • পুরুষ ভোটার: ৭ লাখ ৬১ হাজার ৯৮৬ জন
  • নারী ভোটার: ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৫ জন
  • হিজড়া ভোটার: ১৮ জন

জেলায় মোট ৫১৩টি স্থায়ী ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যেখানে স্থায়ী ভোটকক্ষ ২ হাজার ৮৯০টি এবং অস্থায়ী ভোটকক্ষ ২৪৬টি স্থাপন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলার মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৩৬টি। জেলার ৮টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা ও ৭৭টি ইউনিয়নে একযোগে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এই নির্বাচনে নুরুল হক নুরের মতো প্রথমবারের ভোটারদের অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের চর্চাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পটুয়াখালী জেলার ভোটারদের মধ্যে তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতিও লক্ষণীয়, যা ভবিষ্যত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিচ্ছে।