টঙ্গীতে ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট সংকট: অর্ধেক প্রার্থীর প্রতিনিধি অনুপস্থিত
টঙ্গীতে ভোটকেন্দ্রে অর্ধেক প্রার্থীর এজেন্ট নেই

টঙ্গীর ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট সংকট: অর্ধেক প্রার্থীর প্রতিনিধি অনুপস্থিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে টঙ্গী শিল্পাঞ্চলে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার দেড় ঘণ্টা পরেও অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে অর্ধেক প্রার্থীর এজেন্ট অনুপস্থিত রয়েছেন। এই অবস্থা টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকার কেন্দ্রগুলোতে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল কেন্দ্রের চিত্র

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল ভোট কেন্দ্রে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোটারদের উপস্থিতি খুবই সীমিত। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৫,১৭৮ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩,১২৭ জন, নারী ভোটার ২,০৫০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার একজন রয়েছেন। সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ৯টা পর্যন্ত লাইনে কোনো ভোটার পাওয়া যায়নি। তবে কেন্দ্রের বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ভোটার অবস্থান করছিলেন।

এজেন্টদের অবস্থা ও প্রার্থীদের প্রতিনিধিত্ব

এই ভোটকেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষে পরিদর্শন করে দেখা যায়, ধানের শীষ, শাপলা কলি, হাতপাখা, ট্রাক ও মাছ প্রতীকের প্রার্থীদের এজেন্ট উপস্থিত রয়েছেন। এই আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী থাকলেও বিভিন্ন কক্ষে মাত্র ৪ থেকে ৬ জন প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট কাজ করছেন। মজার বিষয় হলো, অনেক এজেন্টের কাছে প্রার্থীর প্লেকার্ডও দেখা যায়নি। প্রশ্ন করলে তারা জানান, তারা এজেন্ট কার্ড ভুলে বাসায় রেখে এসেছেন।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তার বক্তব্য

টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শওকত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, "যেসব প্রার্থীর এজেন্ট এসেছেন, তারা সঠিকভাবে কাজ করছেন। আমাদের কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই ভালো রয়েছে।" ভোট কাস্টের পরিসংখ্যান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি উল্লেখ করেন, "দুই ঘণ্টা পর পর ভোটের হিসাব করা হবে।"

টঙ্গীর অন্যান্য কেন্দ্রের অবস্থা

এদিকে টঙ্গীর এরশাদ নগর, মুদাফা, আরিচপুরসহ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে অর্ধেকের বেশি প্রার্থীর এজেন্ট পাওয়া যায়নি। এই অবস্থা টঙ্গী শিল্পাঞ্চলের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় একটি অনন্য দৃশ্য তৈরি করেছে।

ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটাররা বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করলেও লাইনে যাওয়ার প্রবণতা কম দেখা যাচ্ছে। এই নির্বাচনে টঙ্গীর ভোটারদের অংশগ্রহণ ও প্রার্থীদের এজেন্ট ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।