ইন্টারিম সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের ভোটদান, বললেন 'নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন'
তেরোতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ইন্টারিম সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুস। তিনি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে ঢাকার গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটদানের পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে তিনি এই দিনটিকে 'বিশাল আনন্দের' দিন হিসেবে বর্ণনা করেন এবং একে 'নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন' বলে অভিহিত করেন।
ভোটদানের পর ড. ইউনুসের বক্তব্য
ড. মুহাম্মদ ইউনুস সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আমরা পুরোপুরিভাবে দুঃস্বপ্নের অতীতকে পরিহার করেছি।' তিনি দেশের নাগরিকদের সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট উভয় প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানান। তার মতে, এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক, যা দেশকে একটি নতুন দিগন্তে নিয়ে যাবে। তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন জাতির উদ্দেশ্যে ঈদ মোবারক শুভেচ্ছা জানিয়ে, যা এই দিনটির গুরুত্বকে আরও বৃদ্ধি করেছে।
তেরোতম সংসদ নির্বাচনের বিস্তারিত তথ্য
তেরোতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শুরু হয়েছে। সারাদেশে ২৯৯টি নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণ চলছে, যেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর এবং জনসাধারণের প্রত্যাশা ব্যাপক। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
সারাদেশে মোট ৪২,৬৫৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে, যা নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচনী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে এবং কোনো প্রকার বিঘ্ন ঘটতে দেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নির্বাচন কমিশন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ তত্ত্বাবধানে এই নির্বাচন পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচনী এলাকাগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ভোটারদের সুবিধার্থে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন। ড. মুহাম্মদ ইউনুসের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের ভোটদান এবং তার বক্তব্য এই নির্বাচনের গুরুত্বকে আরও বৃদ্ধি করেছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হবে।
