রংপুর-৪ আসনে এনসিপি প্রার্থী আখতার হোসেনের জয়ের প্রত্যাশা ও ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব এবং ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের প্রার্থী আখতার হোসেন বৃহস্পতিবার সকালে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাঁর জয়ের আশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি তাঁর মা রোকেয়া বেগমকে নিয়ে কাউনিয়ার ভায়েরহাট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে এসে এই প্রতিক্রিয়া জানান।
আখতার হোসেনের বক্তব্য ও অভিযোগ
আখতার হোসেন বলেন, 'চব্বিশের অভ্যুত্থানের শহীদ ও যাঁরা গাজী আছেন, তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই এই নতুন বাংলাদেশে আজ ভোট দেওয়ার মতো একটি সুযোগ বাংলাদেশের জনগণ পেয়েছে।' তবে তিনি ভোটের আগের রাত থেকে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলেন, 'গতকাল রাত থেকে বিভিন্ন জায়গায় কিছু অনিয়ম আমাদের চোখে ধরা পড়েছে। মারামারির মতো ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন জায়গায় অনেককে হেনস্তা করা হয়েছে। মারধর করা হয়েছে। শাপলা কলির সমর্থক, দাঁড়িপাল্লার সমর্থক যাঁরা আছেন, ১১ দলের সমর্থকদের ওপর হুমকি-ধমকি, মারামারি ও রক্তপাত ঘটানো হয়েছে। এই বিষয়গুলো আমাদের নানাভাবে শঙ্কিত করে তুলছে।'
ভোটের পরিবেশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ
ভোটের পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আখতার হোসেন আরও বলেন, 'আমরা প্রশাসনের দুর্বলতা খেয়াল করছি। আমাদের নামে মিথ্যা গুজব ছড়ানো হয়েছে। নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের কাছে মনে হয়, প্রশাসন এখন পর্যন্ত খুবই দুর্বলভাবে তাঁদের কার্যক্রমগুলো পরিচালনা করছে। এই দুর্বলতা নিয়ে সারা দিন যদি চলতে থাকে, সে ক্ষেত্রে ভোটের ফলাফল নিয়ে একটা আশঙ্কার জায়গা তৈরি হবে। সুষ্ঠু ভোট নিয়ে একটা আশঙ্কার জায়গা তৈরি হতে পারে।' তিনি প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
জয়ের প্রত্যাশা ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা
নিজের জয়ের বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন, রংপুর-৪ আসনের ভোটাররা শাপলা কলি মার্কায় ভোট দেবেন এবং দিন শেষে শাপলা কলি সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে বিজয়ী হবে—এই প্রত্যাশা তিনি ব্যক্ত করেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ ভোটারের বিপরীতে ৯ জন প্রার্থী রয়েছেন। প্রার্থীদের তালিকা নিম্নরূপ:
- আখতার হোসেন (এনসিপি ও ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য)
- মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা (বিএনপি)
- আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান (জাতীয় পার্টি)
- মো. জাহিদ হোসেন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)
- আবু সাহমা (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)
- প্রগতি বর্মণ (বাসদের-মার্ক্সবাদী)
- উজ্জল চন্দ্র রায় (বাংলাদেশ কংগ্রেস)
- জয়নুল আবেদীন (স্বতন্ত্র প্রার্থী)
- শাহ্ আলম বাসার (স্বতন্ত্র প্রার্থী)
এই নির্বাচনটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
