শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত: প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত
বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ শুরু হয়েছে। দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ চলছে, যা বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। একই সময়ে সংবিধান সংস্কার ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ব্যতিক্রম শেরপুর-৩ আসন
তবে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে। ফলে আজ এই আসনে কোনো ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, পরবর্তীতে নতুন করে তফশিল ঘোষণা করা হবে।
আইনগত বিধান ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য
নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কোনো সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণের আগে যদি কোনো বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী ওই আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত বা বাতিল করার বিধান রয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (পিআরও) অনুযায়ী, কোনো বৈধ প্রার্থী মারা গেলে সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনি কার্যক্রম বাতিল করবেন এবং ওই আসনের জন্য নতুন তফশিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। নতুন তফশিল অনুযায়ী, আগে যারা বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হয়েছিলেন, তাদের পুনরায় মনোনয়নপত্র দাখিল বা জামানত জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে নতুন কোনো যোগ্য ব্যক্তি চাইলে নির্ধারিত সময়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন।
শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থীদের তালিকা
শেরপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন বিএনপি মনোনীত মো. মাহমুদুল হক রুবেল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো. মিজানুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম।
প্রার্থীর মৃত্যুর ঘটনা
এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ৩টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল। উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। তিনি জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫১ বছর।
এই প্রার্থীর মৃত্যুর প্রেক্ষিতেই শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই ঘটনা একটি উল্লেখযোগ্য ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার আইনগত দিকগুলোকে সামনে এনেছে।
