খুলনায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু: ৩৮ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় খুলনায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনে ৬টি আসনের জন্য ৩৮ জন প্রার্থী জয়-পরাজয় নির্ধারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটানিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকারের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ভোটগ্রহণ একযোগে সব কেন্দ্রে শুরু হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে চলছে।
প্রার্থীদের তালিকা ও রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ
খুলনায় মোট ১৩টি রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বিএনপি থেকে ৬ জন, জামায়াতে ইসলামী থেকে ৫ জন, জাতীয় পার্টি থেকে ৪ জন, ইসলামী আন্দোলন থেকে ৫ জন, সিপিবি থেকে ২ জন প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়াও, বাসদ, খেলাফত মজলিস (দেয়াল ঘড়ি), গণ অধিকার পরিষদ, ইসলামী ফ্রন্ট, সম অধিকার পার্টি, রিপাবলিক পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক পার্টি থেকে একজন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাকিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।
কেন্দ্রের সংখ্যা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
খুলনায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৪০টি, যার মধ্যে ৫৮৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি আসনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বিশদভাবে নিম্নরূপ:
- খুলনা-১ আসনে ১১৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮০টি ঝুঁকিপূর্ণ।
- খুলনা-২ আসনে ১৫৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৩টি ঝুঁকিপূর্ণ।
- খুলনা-৩ আসনে ১১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৭টি ঝুঁকিপূর্ণ।
- খুলনা-৪ আসনে ১৪৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৬টি ঝুঁকিপূর্ণ।
- খুলনা-৫ আসনে ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ।
- খুলনা-৬ আসনে ১৫৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৪টি ঝুঁকিপূর্ণ।
এই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েন
নির্বাচনী প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার জন্য সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার, পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যাপকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করছে, প্রায় ১১০০ সেনা সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিটি উপজেলায় ২ প্লাটুন বিজিবি এবং ২ প্লাটুন আনসার টহল দিচ্ছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
খুলনা শহর ও শহরের বাইরে ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ১৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত রয়েছেন। নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, খুলনা নগরী ও জেলাজুড়ে প্রায় ১৯ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশসহ যৌথবাহীনির সদস্যরা ভোটকেন্দ্র এবং কেন্দ্রের বাইরে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, অপরাধীরা কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটাতে পারবে না এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট প্রদান নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।
এদিকে, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সকাল থেকে শুরু হয়ে চলমান রয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত হচ্ছেন এবং নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
