ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু, দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে একযোগে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে এই ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি এবং উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রার্থী ও ভোটারের সংখ্যা: বিশাল আয়োজন
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ফলে আজ ২৯৯টি আসনে মোট ২,২৮০ জন প্রার্থী লড়াই করছেন। এর মধ্যে ১,৭৫৫ জন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১,৯৪৬ জন, যার মধ্যে ১,৬৯২ জন রাজনৈতিক দল এবং ২৫৩ জন স্বতন্ত্র। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন, যার মধ্যে ৬৩ জন রাজনৈতিক দল এবং ২০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
দেশের মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার আজ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১,২৩২ জন। সারা দেশে মোট ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যেগুলোকে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) ভোটকেন্দ্রে ভাগ করা হয়েছে। সাধারণ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২১,২৭৩টি এবং গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ২১,৫০৬টি।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ব্যাপক প্রস্তুতি
নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে সারা দেশে ৯ লাখ ১৯ হাজার ২৮০ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সেনা সদস্য সারা দেশে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ৫ জেলার ১৭ আসনে ৫ হাজার নৌবাহিনীর সদস্য অবস্থান করছেন। বিমানবাহিনীর সদস্য রয়েছেন সাড়ে ৩ হাজার, বিজিবির সদস্য ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্টগার্ডের সদস্য ৩ হাজার ৫৮৫ জন, পুলিশের সদস্য ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র্যাবের সদস্য ৯ হাজার ৩৪৯ জন, আনসারের সদস্য ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন এবং বিএনসিসির সদস্য ১ হাজার ৯২২ জন। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত ২১,৫০৬টি কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
প্রধান আসনগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা: রাজনৈতিক উত্তেজনা
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে আজ বড় দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের লড়াই হবে দেখার মতো। ঢাকা-১৭ আসনে লড়ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এছাড়াও সারা দেশে হেভিওয়েট প্রার্থীদের আসনগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যা নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর প্রহরা এই গণতান্ত্রিক উৎসবকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
