বালাগঞ্জে ভোটকেন্দ্রে এজেন্টের প্রবেশ নিয়ে উত্তেজনা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মারধরের শিকার
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় একটি ভোটকেন্দ্রে প্রার্থীর এজেন্টের প্রবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মারধরের শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বুধবার রাতে পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের মহিশাষী কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে, যা নির্বাচনী পরিবেশে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, রাত আটটার দিকে সিলেট-৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুসলেহ উদ্দীনের এক এজেন্ট কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে বিএনপির প্রার্থী এম এ মালিকের অনুসারীরা সেখানে গিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। রাতের বেলা এজেন্টের কেন্দ্রে প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে উত্তেজনা চরমে উঠলে কয়েকজন কর্মী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে মারধর করেন, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। রাত একটার দিকে এম এ মালিকের গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, মহিশাষী কেন্দ্রে একটি গোষ্ঠী ভোট ডাকাতির চেষ্টা করেছে। ঘটনাটি জানতে পেরে প্রার্থী সেখানে যাচ্ছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সারওয়ার আলম ঘটনাটির তদন্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কেন এজেন্টকে কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাতের বেলা কেন্দ্রে প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই, যা নির্বাচনী নীতিমালার লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হচ্ছে।
একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ও নীতিমালা বাস্তবায়নে নতুন চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে আরও সতর্কতা জরুরি করে তুলেছে।
