আশুলিয়ায় ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা: বিএনপির ১৩ নেতাকর্মী আটক
আশুলিয়ায় ভোটকেন্দ্র দখল চেষ্টায় বিএনপির ১৩ জন আটক

আশুলিয়ায় ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা: বিএনপির ১৩ নেতাকর্মী সেনাবাহিনীর হাতে আটক

ঢাকার আশুলিয়া উপজেলায় দুটি ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টার অভিযোগে বিএনপির ১৩ নেতাকর্মীকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল অভিযান চালিয়ে এই আটক কার্যক্রম সম্পন্ন করে। পরে আটক ব্যক্তিদের আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রথম অভিযানে ৯ জন আটক

সেনাবাহিনীর টহল দল ধামসোনা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন নগর নিউ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে আটক করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, আটক ব্যক্তিরা হলেন—মধুপুর এলাকার শামসুল হকের ছেলে আব্দুর রহমান (৪২), বশির উদ্দিন বেপারীর ছেলে মো. শাহজাহান বেপারী (৬৪), ইয়াকুব আলীর ছেলে মোহাম্মদ সরোয়ার (৫২), শাহজাহান বেপারীর ছেলে মো. জুলহাস উদ্দিন (২৪), মো. বাবুল হোসেনের ছেলে মো. সুমন (২৩), আহমদ আলীর ছেলে মো. সুজন (২০), মো. তাইজুল ইসলামের ছেলে মো. শাহিনুর ইসলাম (৩০), আখতার হোসেনের ছেলে মো. সুমন (৩৬) এবং গোপিপাড়া এলাকার দানেজ আলী শেখের ছেলে মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম (৩৫)।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তারা সবাই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর সমর্থক। তাদের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযানে আরও ৪ জন আটক

একই সময়ে ধামসোনা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নলাম কেন্দ্রে পৃথক অভিযানে আরও ৪ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন—নলাম বাগবাড়ি এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে মো. মন্টু মিয়া (৩৫), নলাম পানপাড়া এলাকার মো. আলী হোসেনের ছেলে মো. জুয়েল মিয়া (৩৬), একই এলাকার লোকমান হোসেনের ছেলে কবির হোসেন (৩৭) এবং মজিদ বেপারীর ছেলে রাকিব হোসেন (৩৯)।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তারাও একই প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর সমর্থক। এই অভিযানেও ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টার সন্দেহে তাদের আটক করা হয়েছে।

থানা হেফাজতে আটক ব্যক্তিরা

আশুলিয়া থানার ডিউটি অফিসার এসআই সায়মন শেখ বলেন, ‘সেনাবাহিনী রাতেই ১৩ জনকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছে।’ বর্তমানে তারা থানা হেফাজতে রয়েছেন। যাচাই-বাছাই শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এই পদক্ষেপ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

এই ঘটনায় আশুলিয়া এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নির্বাচনী প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভোটকেন্দ্রে যেকোনো অনিয়ম রোধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে।