বগুড়ায় নির্বাচনি কেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশে দুই জামায়াত নেতাকর্মী আটক
বগুড়ায় নির্বাচনি কেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশে দুই জামায়াত নেতাকর্মী আটক

বগুড়ায় নির্বাচনি স্কুল কেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশের ঘটনায় দুই জামায়াত নেতাকর্মী আটক

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের ভান্ডারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে রাতে অনধিকার প্রবেশের সময় দুই জামায়াত নেতাকর্মীকে আটক করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা ও পুলিশ। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ চন্দ্র সরকার আটক দুজনের কাছে প্রাথমিক মুচলেকা নিয়েছেন এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

বগুড়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা তৌহিদুল ইসলাম বিটু এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ১০-১৫ জনের একদল জামায়াত নেতাকর্মী শহরের শিববাটি এলাকায় ভান্ডারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আসেন। তারা দরজায় ধাক্কা দিলে আনসার সদস্য দরজা খুলে দেন, এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েকজন স্কুল কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করেন।

স্থানীয় জনগণ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় দুই জামায়াত নেতাকর্মী নাসিরুল ইসলাম জার্জিস ও আবদুল বারী দাবি করেন যে তারা পোলিং এজেন্টের তালিকা দিতে এসেছিলেন। তবে রাতে কেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে প্রবেশ নিষেধ থাকা সত্ত্বেও তারা এই বিধান অমান্য করায় জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

পুলিশের হস্তক্ষেপ ও আটক

জনগণের ক্ষোভের মুখে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বগুড়া শহর জামায়াতের ২নং ওয়ার্ডের সেক্রেটারি নাসিরুল ইসলাম জার্জিস এবং কর্মী আবদুল বারীকে আটক করেন। তাদেরকে পরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ চন্দ্র সরকারের ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ চন্দ্র সরকার জানান, রাত ১০টার দিকে খবর আসে যে ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি ভান্ডারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশ করেছেন। তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে নাসিরুল ইসলাম ও আবদুল বারীকে আটক করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে আটক ব্যক্তিরা পোলিং এজেন্টের তালিকা দেওয়ার দাবি করলেও রাতে কেন্দ্রে তালিকা দেওয়ার কোনো বিধান নেই।

আইনগত পদক্ষেপ ও উত্তেজনা

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, আটক দুই জামায়াত নেতাকর্মীর কাছে প্রাথমিক মুচলেকা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, জামায়াত নেতাকর্মীদের আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

বগুড়া শহর জামায়াতের যুব বিভাগের সম্পাদক আব্দুস সালাম তুহিন দাবি করেন যে তাদের কর্মীরা শুধুমাত্র পোলিং এজেন্টের নামের তালিকা দিতে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে তাদের পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচনি শান্তি ও নিয়ম-কানুন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।