রংপুরে ভোটকেন্দ্র থেকে চারটি সিসি ক্যামেরা চুরি: নির্বাচনী নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ
রংপুরে ভোটকেন্দ্র থেকে সিসি ক্যামেরা চুরি

রংপুরে ভোটকেন্দ্র থেকে সিসি ক্যামেরা চুরি: নির্বাচনী নিরাপত্তায় নতুন উদ্বেগ

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে মোট চারটি সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চুরির ঘটনা মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময়ে সংঘটিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

চুরির বিস্তারিত বিবরণ

চুরির শিকার হওয়া কেন্দ্র দুটি হলো কুর্শা ইউনিয়নের দর্জিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সয়ার ইউনিয়নের সয়ার ডারারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্কুলের শিক্ষক করিম আলী জানিয়েছেন, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা রাতের অন্ধকারে এই সিসি ক্যামেরাগুলো অপহরণ করেছে। তিনি বলেন, "চুরির ঘটনা আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কেননা এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।"

প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ

বুধবার বিকালে তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোনাব্বর হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকালে বিষয়টি জানার পরপরই নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য তাৎক্ষণিক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। মোনাব্বর হোসেন বলেন, "আমরা নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। চুরির ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

রংপুর-২ আসনের নির্বাচনী প্রেক্ষাপট

তারাগঞ্জ ও বদরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-২ আসনে এবার পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

  • জাতীয় পার্টির আনিছুল ইসলাম মণ্ডল
  • বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার
  • জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম

এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৮০ হাজার ৯২১ জন। ভোটার তালিকায় নারী ভোটার এক লাখ ৮৮ হাজার ৬২৫ জন, পুরুষ ভোটার এক লাখ ৯২ হাজার ২৮৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তারাগঞ্জ উপজেলায় মোট ১৩৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্ধারিত হয়েছে।

নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে চলমান উদ্বেগ

সিসি ক্যামেরা চুরির এই ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভোটকেন্দ্রগুলোর সার্বক্ষণিক নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং এই ধরনের ঘটনা ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করতে পারে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, তারা নির্বাচনী দিনে যেকোনো অনিয়ম রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা চান, এই চুরির ঘটনা যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে। নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।