পাবনার ৫টি আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা: বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা গলার কাঁটা
পাবনার ৫ আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা: বিদ্রোহী প্রার্থীরা গলার কাঁটা

পাবনার ৫টি আসনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা: বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা গলার কাঁটা

প্রকাশ্যে প্রচার-প্রচারণা শেষ হলেও পাবনা জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে এখনও চলছে শেষ সময়ের হিসাব-নিকাশ। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জেলার ৫টি আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ নয়টি দলের মনোনীত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২৮ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। বিশেষ করে পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা ধানের শীষের প্রার্থীদের জন্য রীতিমতো গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। বারবার সতর্কীকরণ এবং দল থেকে বহিষ্কার করার পরও তাদের বরফ গলেনি।

পাবনা-১: ভিআইপি আসনে হারানো আসন পুনরুদ্ধারের লড়াই

পাবনা-১ আসনটি ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত। এখানে দীর্ঘ ৪৬ বছর পর বিএনপি তার হারানো আসন ফিরে পেতে এবং ২০ বছর পর জামায়াত দুবারের বিজয়ী আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া। জামায়াতের প্রার্থী সাবেক আমির প্রয়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং বিএনপির প্রার্থী মো. শামসুর রহমানের মধ্যে মূল ভোট যুদ্ধ হবে। সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও পরে ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন, যা ধানের শীষের পালে নতুন হাওয়া লাগিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানে ধানের শীষ এবং দাঁড়িপাল্লার মধ্যে তুমুল লড়াই হবে।

পাবনা-২: বিএনপির খোশমেজাজে অবস্থান

পাবনা-২ আসনটি সুজানগর এবং বেড়া উপজেলা সম্পূর্ণ নিয়ে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এতে আয়তন ও ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ আসনে ৫ জন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। বিএনপি প্রার্থী সাবেক এনপি একেএম সেলিম রেজা হাবিব এবং জামায়াতের প্রার্থী মো. হেসাব উদ্দিন মুখোমুখি। বেড়ার একাংশ এবং সুজানগরে বিএনপির বিশাল ভোটব্যাংক থাকায় এবং জামায়াতের সংগঠন তুলনামূলক দুর্বল থাকায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী খোশমেজাজে রয়েছেন।

পাবনা-৩: বিদ্রোহী প্রার্থীর আঞ্চলিক সুবিধা

পাবনা-৩ আসনটি চলনবিল অধ্যুষিত চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। ভোটারদের মতে, এবার এ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কৃষক দল কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আছগার আলী এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলামের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। বিদ্রোহী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি মাঠ ছাড়েননি। চাটমোহরের বাসিন্দা হিসেবে তিনি আঞ্চলিকতার দুর্বলতা কাজে লাগিয়েছেন, যা ধানের শীষের প্রার্থীর জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাবনা-৪: বিদ্রোহীর কারণে বিএনপির চ্যালেঞ্জ

পাবনা-৪ আসনটি ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে বিএনপি প্রার্থী জেলা বিএনপি আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, জামায়াত প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মণ্ডল এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু মরিয়া হয়ে মাঠে রয়েছেন। অতীতে এ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ১৯৯৬ সাল থেকে আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনেও বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় আসনটি পুনরুদ্ধার করা বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভাজনের সুযোগে জামায়াত প্রার্থী খোশ মেজাজে রয়েছেন।

পাবনা-৫: জেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ আসন

পাবনা-৫ আসনটি জেলা সদরের আসন হওয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখানে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অধ্যাপক ইকবাল হোসাইনের মধ্যে। জেলার সব মানুষ এ আসনের দিকে তাকিয়ে আছেন, যা নির্বাচনের ফলাফলকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।

সর্বোপরি, পাবনা জেলার ৫টি আসনে শেষ সময়ের এই হিসাব-নিকাশে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভূমিকা এবং দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে জটিল ও চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচনী গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।