গুলশানের সড়ক ব্যানারে ছেয়ে গেছে, ভোটকেন্দ্রে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এখন মাত্র কয়েক ঘণ্টা দূরে। ফাগুনের আগমনী বার্তার সঙ্গে মিশে গেছে নির্বাচনী উৎসবের আমেজ। রাজধানীর গুলশান, বাড্ডা, রামপুরা, তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কগুলো সাদা-কালো ব্যানারে ছেয়ে গেছে। ফুটপাতের গাছ থেকে শুরু করে মাঠের চারপাশে ঝুলছে প্রার্থীদের প্রচার ব্যানার, যেন সীমানাপ্রাচীর। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ব্যানার পাশাপাশি ঝুলে থাকায় ‘সহাবস্থানের’ এক অদ্ভুত দৃশ্য তৈরি হয়েছে।
ছুটির দিনেও ভোটকেন্দ্রে তুমুল ব্যস্ততা
নির্বাচন ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলে চার দিনের ছুটি শুরু হওয়ায় বুধবার রাজধানীর সড়কগুলো ছিল চিরচেনা ব্যস্ততা থেকে অনেকটাই নিঃসঙ্গ। যানবাহন ও লোকজনের চলাচল কম থাকলেও ভোটকেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে তীব্র কর্মব্যস্ততা। ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার বণ্টন, কাপড় দিয়ে বুথ তৈরি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থান, প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের তৎপরতা—সব মিলিয়ে কেন্দ্রগুলো মুখরিত। ফুটপাতের চায়ের দোকানগুলোতেও নির্বাচন নিয়ে কৌতূহল ও গল্পের ঝড় বইছে। দোকানিরা হাসিমুখে বলছেন, ‘নির্বাচনের কিছু গল্প তো হবেই।’
গুলশান মডেল স্কুলে ভিআইপি ভোটারদের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি
গুলশান মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রটি ঢাকা-১৭ আসনে অবস্থিত, যাকে অনেকে ‘ভিআইপিদের কেন্দ্র’ বলে অভিহিত করেন। এখানে ভোট দেবেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতো ব্যক্তিত্ব। কেন্দ্রটিতে মাস দেড়েক আগে রং করা হয়েছে, নারকেলগাছের গোড়া পর্যন্ত চকচক করছে। অফিস সহকারী দীপালি রাণী মাঠের স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করতে শুকনো রঙের গুঁড়া ছিটিয়ে দিচ্ছিলেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মীরা হ্যালোজেন লাইট স্থাপনের কাজ করছেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রুবেল মাহমুদ জানান, ‘এটা ভিআইপি এলাকা, তাই নিরাপত্তাব্যবস্থা বেশি। রাতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা থাকবেন।’
বাড্ডা ও তেজগাঁও কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ও বুথ তৈরির কাজ
বাড্ডার সিরাজ মিয়া মেমোরিয়াল মডেল স্কুল কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার নিয়ে প্রবেশ করছিলেন নির্বাচনী দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এখানে নির্বাচনের প্রস্তুতি সব শেষ। এটা নারীদের কেন্দ্র, ভোটার ৩ হাজার ১৪ জন।’ তেজগাঁও শিল্প এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কাপড় দিয়ে বুথ তৈরি করছিলেন কর্মীরা। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাবিব ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স বুঝে পেয়েছেন বলে জানান।
ভোটারদের প্রত্যাশা: নিরাপদ ও দুর্নীতিমুক্ত ভোট
গুলশানের ভোটার শারমিন ফারহানা চৌধুরী বলেন, ‘ভোট দিতে যাব। যিনি যোগ্য, তাঁকেই ভোট দেব।’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভোটার মেহেদী হাসান দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ে ওঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তরুণ ভোটার মুরসালিন নোমানি বলেন, ‘এবার নির্বাচন নিয়ে অনেক আগ্রহ। নিরাপদে ভোট দিতে চাই।’ মো. আব্বাস নামে এক ভোটার তাঁর পরিবারের ৮টি ভোটের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ে উঠুক, চাঁদাবাজি বন্ধ হোক।’
নির্বাচনী ক্যাম্প ও চায়ের দোকানে আলোচনা
গুলশান মডেল স্কুলের কাছে ফুটপাতজুড়ে নির্বাচনী ক্যাম্প করা হয়েছে, যদিও কম দূরত্বে এত ক্যাম্প করার নিয়ম নেই। মৎস্যজীবী দলের গুলশান থানা সহসভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘সবাই ক্যাম্প করতে চায়, তাই সংখ্যায় বেশি।’ চায়ের দোকানে বসে ধানমন্ডির ফিওনা হাসান, নেত্রকোনার জবা রিচিলসহ অনেকে নির্বাচন নিয়ে আলাপ করছিলেন। ভিক্ষাবৃত্তি করা ফাতেমার মতো অনেকে কাজের ব্যবস্থা চান।
এলাকাজুড়ে ব্যানারের আধিক্য দেখা গেছে, বিশেষ করে তেজগাঁও শিল্প এলাকায়। ঢাকা-১২ আসনে ১৫ জন প্রার্থী, যার মধ্যে দুজন নারী। ঢাকা-১১ আসনে বিএনপির এম এ কাইয়ুম ও এনসিপির মো. নাহিদ ইসলামের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধারণা করা হচ্ছে। কিছু কেন্দ্রে এখনো ভোটের সরঞ্জাম পৌঁছায়নি, তবে ভোটাররা আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন।
