পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ, হাসান মামুনের সংবাদ সম্মেলন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনে ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের নলখোলা নির্বাচনি কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে দশমিনা উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।
অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ
লিখিত বক্তব্যে হাসান মামুন অভিযোগ করে বলেন, ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী ও তার সমর্থকরা ভোটারদের মধ্যে কালো টাকা বিতরণ করছেন, বিভিন্ন কৌশলে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে বেআইনি মিছিল করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, নিজেদের নির্বাচনি অফিস ও কর্মীদের বাসগৃহে নিজেরাই অগ্নিসংযোগ করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
হাসান মামুন বলেন, অবৈধভাবে ব্যালট পেপার ছাপিয়ে জালভোট দেওয়ার পাশাপাশি সমগ্র নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র দখলের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উল্লেখ করেন, তার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সঠিক তদন্ত হলে এসব মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হবে এবং নেতাকর্মীরা অব্যাহতি পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভোটারদের প্রতি আহ্বান
তিনি আরও বলেন, আপনারা সবাই ধৈর্য ধারণ করুন। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত এবং খুব কাছাকাছি। সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে আগামী ১২ তারিখ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আপনাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন:
- দশমিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল আলীম তালুকদার
- উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ফকরুজ্জামান বাদল
- সাবেক সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম ওহাব চৌধুরী
- উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন
- সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান পঞ্চায়েত
- সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল হক রতন
- দশমিনা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন মোল্লাসহ স্থানীয় নেতারা
এই সংবাদ সম্মেলনটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে পটুয়াখালী-৩ আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিতর্কের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এসব অভিযোগ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক নজরদারি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিকে আরও জোরালো করবে।
