যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ ভ্রমণ সতর্কতা জারি মানবাধিকার সংস্থার
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ ভ্রমণ সতর্কতা জারি মানবাধিকার সংস্থার

২০২৬ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে এক নজিরবিহীন ও উদ্বেগজনক ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বেশ কিছু মানবাধিকার সংস্থা। বৃহস্পতিবার আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ), এনএএসিপিসহ ডজনখানেক সংগঠন যৌথভাবে এই সতর্কতা সংকেত প্রদান করেছে।

ভ্রমণ সতর্কতার কারণ

তাদের দাবি অনুযায়ী, আসন্ন বিশ্বকাপে খেলা দেখতে আসা সাংবাদিক কিংবা খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবৈষম্য বা হয়রানির শিকার হতে পারেন। বিশেষ করে, অভিবাসী গোষ্ঠী এবং সংখ্যালঘু জাতিসত্তার মানুষদের জন্য এই ভ্রমণ এখন এক বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং অভিবাসন নীতি কঠোর করার যে প্রক্রিয়া চলছে তাকে ঘিরেই এই উদ্বেগের সূত্রপাত।

সতর্কতায় যা বলা হয়েছে

এই ভ্রমণ সতর্কতায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে আসা দর্শকদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেমন-মোবাইল বা ল্যাপটপ তল্লাশি করা হতে পারে। এমনকি বর্ণবাদী আচরণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কাউকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই অ্যাডভাইজরিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কেউ যদি কোনো কারণে অভিবাসন আটক কেন্দ্রে বন্দি হন, তাহলে সেখানে তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মূল কারণ

মূলত বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং সংখ্যালঘু ও এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের ওপর থেকে কেন্দ্রীয় সুরক্ষা হ্রাস পাওয়ার বিষয়টিকে এই পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অবস্থায় দর্শনার্থীদের সতর্ক থাকার এবং যে কোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য আগে থেকে পরিকল্পনা রাখার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাগুলো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফিফার প্রতি দাবি

ফিফার কাছে দাবি জানানো হয়েছে, তারা যেন দর্শকদের মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে ফিফা এই উদ্বেগের বিপরীতে তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। ফুটবলের এই অভিভাবক সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তারা ফিফা সংবিধানে অনুচ্ছেদ ৩ অনুযায়ী আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সব মানবাধিকার রক্ষা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ফিফার এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট হতে পারছে না। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত মার্চ মাসেই এক বিবৃতিতে বলেছিল যে এই বিশ্বকাপটি শুরুতে যতটা নিরাপদ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে।