২০২৬ নির্বাচন: আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা
আওয়ামী লীগের আমলে তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮, ২০২৪) অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনে দলটি অংশ নিচ্ছে না, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জেনারেল জিয়াউর রহমান একবার বলেছিলেন, তিনি রাজনীতিকে 'ডিফিকাল্ট' করে তুলবেন। তাঁর পুত্র তারেক রহমানও ২০২৬ নির্বাচনকে 'ডিফিকাল্ট' বলে আখ্যায়িত করেছেন। এই লেখায় সেই জটিলতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হলো।
নির্বাচনের ইতিহাস ও বিতর্ক
স্বাধীন বাংলাদেশের শুরু থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিতর্কিত ছিল। ১৯৯১ সালের নির্বাচনকে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়। অভিজ্ঞতা বলে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের রেকর্ড খুবই সীমিত। ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যা সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আওয়ামী লীগের অধীনে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনকে যথাক্রমে একদলীয়, দিনের ভোট রাতে গণনা ও 'আমি ডামি'র নির্বাচন বলে বর্ণনা করা হয়। ২০২৬ সালের নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে হচ্ছে, যদিও আদালতের রায় সত্ত্বেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়নি।
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের সংকট
যখন বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী নির্বাচনে অংশ নিত না, তখন আওয়ামী লীগ দাবি করত যে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে নির্বাচন হচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মিডিয়া বলত যে এটি সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নয়। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ কিছু দল অংশ নিচ্ছে না, যা আবারও 'ইনক্লুসিভ' নির্বাচনের প্রশ্ন তুলেছে। ড. ইউনূস সরকারের কর্তাব্যক্তিরা এখন সেই একই যুক্তি দিচ্ছেন, সাথে নতুন করে যোগ হয়েছে যে আওয়ামী লীগ দ্রুত 'অপ্রাসঙ্গিক' হয়ে যেতে পারে।
জামায়াতের ভূমিকা ও ডিজাইন
জামায়াত ইসলামী এনসিপির সাথে নির্বাচনি জোট করেছে, যাকে অনেকেই জামায়াতের 'বি টিম' বলে অভিহিত করছেন। প্রচারণা চলছে যে জামায়াত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জাতীয় নির্বাচনেও জয়লাভ করতে পারে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি 'মেটিকুলাস ডিজাইন' এর শিকার হয়েছিল বলে মনে করা হয়, এবং ২০২৬ সালেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ এই প্রসঙ্গে আলোচনা বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও জনরায়
১৯৯১ সালের নির্বাচনে প্রচারণা ছিল যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে, কিন্তু বিএনপি জয়ী হয়। এবারের প্রচারণায় বলা হচ্ছে, 'আওয়ামী লীগকে দেখেছি, বিএনপিকে দেখেছি, এবার জামায়াতকে দেখবো'। ড. ইউনূসের রাজনৈতিক অবস্থানও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে তাঁর সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ই জামায়াতের সাথে বিভিন্ন সময়ে জোট করেছে, যা ভবিষ্যত রাজনীতিতে জামায়াতের প্রভাব নিয়ে শঙ্কা বাড়াচ্ছে।
নির্বাচনি সতর্কতা ও ভবিষ্যৎবাণী
নির্বাচনে জাল ভোট বা অনিয়মের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের একটি ঘটনা উল্লেখ করা যায়, যেখানে একজন বৃদ্ধ দাবি করেন যে তাঁর মৃত স্ত্রী ভোট দিয়েছেন। এমন ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য কঠোর নজরদারির প্রয়োজন। ভবিষ্যৎবাণী হলো, বাংলাদেশের মানুষ সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে এবং বিষ পান করবে না। তবে ভোট গণনায় বিলম্ব বা 'মেটিকুলাস ডিজাইন' এর আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
ভবিষ্যৎবাণী: ২০২৬ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আনতে পারে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি, জামায়াতের ডিজাইন ও বিএনপির ভূমিকা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও, জনগণের সঠিক সিদ্ধান্তই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। বিষ চিরকাল বিষই থাকে, এবং এদেশের মানুষ জেনেশুনে তা গ্রহণ করবে না বলে বিশ্বাস করা যায়।
