লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজানের জয়ের পথ সুগম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে বিএনপির প্রার্থী এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে ভোটের মাঠে এগিয়ে রয়েছেন। গত চৌদ্দ মাস ধরে তিনি সরাসরি এক লাখ পঁয়তাল্লিশ হাজার ভোটারের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাদের সমস্যা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা শুনেছেন। স্থানীয় ভোটাররা দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তবে নিজান বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করবেন।
স্থানীয় মানুষের অকৃত্রিম ভরসা নিজান
এই আসনের সাধারণ মানুষের কাছে আশরাফ উদ্দিন নিজান এখন ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভোটারদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা গেছে, তার সবচেয়ে বড় গুণ হলো সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারা এবং তাদের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা। নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ যেকোনো সময় তাকে ফোন করে তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা জানাতে পারেন। কোনো মানুষ বিপদে পড়লে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে ছুটে যান। অনেকের মতে, যেকোনো সমস্যা তার কাছে জানালেই তিনি তা সমাধান করে দেন।
এমপি থাকাকালীন সময়েও তার কাছে গিয়ে কথা না বলে ফিরে যাওয়ার কোনো রেকর্ড নেই। তিনি একজন সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করেন এবং সবার সঙ্গে খোলামেলা আচরণ করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য নিজান দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষের সেবা করে আসছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় নিজানের অবস্থান শক্তিশালী
এই আসনে মোট চার জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জেএসডির সহসভাপতি ও স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলক আ স ম আবদুর রবের স্ত্রী তানিয়া রব, ইসলামী আন্দোলনের খালেদ সাইফুল্লাহ এবং একাদশ দলীয় জোটের প্রার্থী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আশরাফুর রহমান হাফিজ উল্যা। তবে স্থানীয় ভোটারদের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, অন্যান্য প্রার্থীদের তুলনায় নিজানই এগিয়ে রয়েছেন। ভোটাররা স্পষ্টভাবে বলছেন, নিজানই হবেন তাদের প্রকৃত জনপ্রতিনিধি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা চার লাখ তেরো হাজার ছয়শত আটান্ন জন। এখানে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে একশত বাইশটি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন বেশিরভাগ কেন্দ্রকেই ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
রাজনৈতিক সমীকরণে নিজানের সুবিধা
রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির মানুষের সঙ্গে আলোচনায় জানা গেছে, এই নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের জোট না হওয়ায় বিএনপি প্রার্থী নিজান একধাপ এগিয়ে আছেন। এছাড়া রামগতি উপজেলা বিএনপির নেতা শরাফ উদ্দিন সোহেল আজাদ ও মীর আক্তার হোসেন বাচ্চুসহ কয়েকজন নেতা জেএসডির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় নিজান কিছুটা চাপের মধ্যে ছিলেন। তবে সর্বশেষ তিনি ওই নেতাদের নিজের পক্ষে নিয়ে আসতে সক্ষম হওয়ায় এখন বিজয়ের পথে বড় কোনো বাধা দেখছেন না স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।
নিজানের ভাষ্য: ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগই মূল শক্তি
নির্বাচনের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, ‘আমার নেতা তারেক রহমানের একত্রিশ দফা সংস্কার প্রস্তাব ও পরিকল্পনা নিয়ে আমি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। এক লাখ পঁয়তাল্লিশ হাজার ভোটারের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেছি। জুলাই-আগস্টের শহীদরা এবং ছাত্রজনতা বুকের রক্ত দিয়ে যে মৌলিক অধিকার আদায় করে দিয়ে গেছেন, আজ আমরা সেই অধিকার ভোগ করছি এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা করছি। সেই সব সংগ্রামী মানুষরাও এখন আমার সঙ্গে আছেন।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা যারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছি, আজ নির্বাচনে তারাই প্রতিযোগিতা করছি। এই আসনের ভোট হবে ঈদের আমেজের মতো উৎসবমুখর। আমি চাই, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের নির্বাচন সারা দেশের জন্য একটি আদর্শ মডেল হয়ে উঠুক। ভোটারদের কাছ থেকে আমি যে অকুণ্ঠ সমর্থন ও সাড়া পেয়েছি, তাতে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমি জয়লাভ করব।’
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের সঙ্গে নিজানের গভীর সম্পর্ক, প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি এবং তার ব্যক্তিগত সেবামূলক কাজের কারণে এই আসনে তার জয়ের সম্ভাবনা ক্রমশ উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। রামগতি ও কমলনগরের মানুষ এখন সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
