সিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতার ভোট কেনার অভিযোগ, জনতার ধাওয়ায় পালিয়ে যাওয়া
সিরাজগঞ্জ-২ আসনের কামারখন্দ উপজেলায় জামায়াত নেতাদের ভোট কেনার অভিযোগে জনতার ধাওয়া খাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে ময়নাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা সংঘটিত হয়, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওতে ধরা পড়া ঘটনা
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ঝাঐল ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমির মোস্তাক সরকার একজন ব্যক্তিকে টাকা হস্তান্তর করছেন। ঠিক সেই মুহূর্তে সেখানে পৌঁছে কিছু লোকজন তার ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন। এতে ভীত হয়ে মোস্তাক সরকার দৌড়ে পালাতে থাকেন এবং স্থানীয়রা তার পিছু ধাওয়া করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
আরেক নেতার আটক ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ
একই উপজেলার চৌবাড়ী গ্রামে রায়দৌলতপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুল মোমিনকে টাকাসহ পথে আটক করেন স্থানীয়রা। তাকে তল্লাশি করে টাকা পাওয়া যায়। খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপক্ষের বক্তব্য শোনেন। তিনি দাবি করেন, টাকাগুলো জামায়াত নেতা নির্বাচনী কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছিলেন। পরে আব্দুল মোমিনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং আটককারীদের লিখিত অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়।
জামায়াত ও বিএনপির প্রতিক্রিয়া
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট শহিদুল ইসলাম বলেন, "ভোটের আগে কেন্দ্র খরচসহ নেতাকর্মীদের টাকা দেওয়া হয়। ওই টাকা কেন্দ্র খরচের হতে পারে। ভয়ে জামায়াত নেতা দৌড় দিয়েছেন, ভোট কেনার তথ্য সত্য নয়।"
অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জের বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, "কামারখন্দে টাকা দিয়ে ভোট কেনার ভিডিও দেখেছি। তারা বিভিন্ন স্থানে একই কাজ করছে এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে খবর পাচ্ছি। প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"
এ ঘটনা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
