ট্রাম্পের দাবি: ইরানের সঙ্গে নতুন চুক্তি ওবামা যুগের চেয়ে অনেক উন্নত হবে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন পারমাণবিক চুক্তি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন যে এই নতুন চুক্তি ২০১৫ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ও উন্নত হবে। ট্রাম্প ওবামা প্রশাসনের সময়কার ঐতিহাসিক চুক্তিটিকে মার্কিন নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সামাজিক মাধ্যম পোস্টে কঠোর সমালোচনা
সোমবার (২০ এপ্রিল) ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। সেই পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, 'আমরা ইরানের সঙ্গে যে চুক্তি করছি, তা জেসিপিওএ—যা ইরান নিউক্লিয়ার ডিল নামে পরিচিত—তার চেয়ে অনেক ভালো হবে।' তিনি আরও যোগ করেছেন যে ওবামা ও বাইডেনের সম্পাদিত চুক্তিটি ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ চুক্তিগুলোর একটি।
নতুন চুক্তির প্রতিশ্রুতি ও পূর্বের চুক্তির সমালোচনা
ট্রাম্প তার প্রশাসনের প্রস্তাবিত চুক্তির কয়েকটি মূল লক্ষ্য উল্লেখ করেছেন:
- ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত রাখা
- মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ব্যাপক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
- চুক্তির কাঠামো ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে
- ইরানের সম্পদ অবমুক্তকরণ প্রক্রিয়া নতুনভাবে বিবেচনা করা
তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে ২০১৫ সালের চুক্তি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি সরল পথ তৈরি করেছিল। ট্রাম্পের মতে, 'ইরানকে শত শত বিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছিল, এবং আমি যদি সেই চুক্তি বাতিল না করতাম, তাহলে ইসরাইলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার হতো।'
সিএনএন প্রতিবেদন ও আর্থিক প্রসঙ্গ
সিএনএন শুক্রবার একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে যে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করছে। এই পরিমাণ ওবামা আমলের চুক্তিতে অনুমোদিত অর্থের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই আর্থিক প্রসঙ্গটি নতুন চুক্তি আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উঠে এসেছে।
২০১৫ সালের চুক্তির পটভূমি ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ
২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের সময় ইরানের সঙ্গে যে পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার মূল লক্ষ্য ছিল নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা। এই চুক্তির অধীনে ইরান নিম্নলিখিত শর্তগুলো মেনে চলতে সম্মত হয়েছিল:
- সেন্ট্রিফিউজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা
- ইউরেনিয়ামের মজুত সীমিত পর্যায়ে রাখা
- আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা
জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা নিশ্চিত করেছিল যে ইরান চুক্তির শর্তাবলি মেনে চলছিল এবং পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নেয় এবং ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই নতুন চুক্তি আলোচনা শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত করেছে, বিশেষ করে যখন ইসরাইলের মতো মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা চিন্তা এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে এই নতুন চুক্তি প্রক্রিয়া পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ও আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে।



