নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট ঘোষণা: ভোটের সময় টাকা বহনে কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই
ভোটের সময় টাকা বহনে কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই: ইসি

নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট ঘোষণা: ভোটের সময় টাকা বহনে কোনো সর্বোচ্চ সীমা নেই

জাতীয় ভোটের সময় নাগরিকরা কত টাকা বহন করতে পারবেন—এই প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন জানিয়েছে, ভোটের সময় টাকা বহনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে অর্থের উৎস ও ব্যবহার বৈধ হতে হবে—এই বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ইসি সচিবের বক্তব্য: বৈধ উৎস থাকলে বড় অঙ্কেও সমস্যা নেই

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ইসি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, বৈধ উৎস দেখাতে পারলে বড় অঙ্কের অর্থ বহনেও আইনগত বাধা নেই। তিনি উল্লেখ করেন, কেউ যদি অর্থের উৎস ও ব্যবহারের খাত বৈধভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন, তাহলে ৫০ লাখ বা ৫ কোটি টাকা বহন করলেও সমস্যা নেই।

ইসি সচিবের বক্তব্য অনুসারে, নাগরিকরা তাদের ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে নিয়ম মেনে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন। তবে এই অর্থের ব্যবহার যদি নির্বাচনি পরিবেশকে প্রভাবিত করার জন্য হয়, তবে কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

অবৈধ ব্যবহার বা উৎসের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা

সচিব আখতার আহমেদ জানান, কোনো অর্থ যদি ভোটারদের প্রভাবিত করতে বা অবৈধ নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়, তবে সেটি সরাসরি ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’র নজরে আনা হবে। অন্যদিকে, যদি অর্থের উৎসই অবৈধ হয় বা কালো টাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়, তবে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

উত্তরবঙ্গে চাঞ্চল্যকর আটক: ৫০ লাখ টাকাসহ নেতা আটক

সচিবের এই ব্যাখ্যার দিনেই উত্তরবঙ্গের নীলফামারীতে এক চাঞ্চল্যকর আটকের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে নগদ ৫০ লাখ টাকাসহ আটক করেছে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থানা পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া এবং নির্বাচনের আগে এর সম্ভাব্য ব্যবহার খতিয়ে দেখতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

কালো টাকা বন্ধে ইসির কঠোর অবস্থান

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের মাঠে কালো টাকার প্রভাব বন্ধ করতে তারা বদ্ধপরিকর। বৈধ ব্যবসায়ী বা সাধারণ মানুষ যেন তাদের বৈধ অর্থ নিয়ে চলাফেরা করতে গিয়ে কোনো প্রকার হয়রানির শিকার না হন, সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের ওপর গোয়েন্দা নজরদারিও কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর, রেলস্টেশন এবং আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে অর্থের উৎস যাচাই করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন মনে করে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অর্থের অপব্যবহার রোধ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ভোটারদের সচেতন থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই নির্দেশনা ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।