কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক এমপি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে থানায় এজাহার
বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক এমপি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে থানায় এজাহার

কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক এমপি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে থানায় এজাহার

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ভোটারদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী এবং ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাইসুল ইসলাম আখন্দ নামের এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে এই এজাহার করেন। দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার পটভূমি ও বিএনপির পদক্ষেপ

এর আগে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে দেবিদ্বার উপজেলার বাকসার বাজারে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে একটি বক্তব্য দেন। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি দলীয় প্রার্থীকে ভোট না দিলে ভোটারদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, বিএনপি দল থেকে তাকে সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলটি এই ধরনের আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি শক্ত অবস্থান গ্রহণ করে। উল্লেখ্য, কুমিল্লা-৪ আসনে ঋণখেলাপির দায়ে মনোনয়ন বাতিল হয় বিএনপির এই সাবেক সংসদ সদস্যের, যা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এজাহারের বিস্তারিত ও আইনি প্রক্রিয়া

বাদী রাইসুল ইসলাম আখন্দের করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী এবং জসিম উদ্দিন ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার চেষ্টা করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে দেবিদ্বার থানা এখন প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনও এই বিষয়ে সতর্ক নজর রাখছে বলে জানা গেছে।

এই ঘটনা রাজনৈতিক সহিংসতা এবং ভোটার হুমকির বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনী সময়ে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কঠোর অবস্থান আশা করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।