সিরাজগঞ্জ-২ আসনে ভোটের আগের দিন জামায়াত নেতার টাকা বিতরণে ধাওয়া
সিরাজগঞ্জ-২ আসনের কামারখন্দ উপজেলায় ভোটের আগের দিন টাকা বিতরণের সময় এক জামায়াত নেতাকে ধাওয়া দিয়েছেন স্থানীয়রা। ধাওয়া খাওয়া ওই নেতা হলেন ঝাঐল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমির মোস্তাক সরকার। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইউনিয়নের ময়নাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করছে।
ভাইরাল ভিডিওতে ধরা পড়েছে ঘটনার চিত্র
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ওই জামায়াত নেতা একজনকে টাকা দিচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে সেখানে গিয়ে কিছু লোকজন তার ভিডিও করতে থাকেন। তখন ওই জামায়াত নেতা দৌড়ে পালাতে থাকেন। স্থানীয়রাও তাকে ধাওয়া দেন। ওই জামায়াত নেতা শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
জামায়াত নেতার পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা
সিরাজগঞ্জ-২ (সিরাজগঞ্জ-কামারখন্দ) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম বলেন, ভোটের আগে আমাদের জামায়াতের এজেন্ট ও স্বেচ্ছাসেবীদের খরচ দিতে হয়। সেই টাকাই আমাদের এক নেতা দিতে গিয়েছিল, তখনই বিএনপির কিছু লোকজন ধাওয়া দিলে ভয়ে হয়তো ওই জামায়াত নেতা দৌড় দিয়েছেন। তবে এই ব্যাখ্যা স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করেছে, যারা ভোট কিনতে টাকা বিতরণের অভিযোগ উত্থাপন করছেন।
পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
কামারখন্দ থানার ওসি রেজাউল ইসলাম বলেন, জামায়াত নেতার ভোট কেনার বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে আমাদের এসিল্যান্ড স্যার বিস্তারিত বলতে পারবেন। অন্যদিকে, কামারখন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, সাংবাদিকদের কাছ থেকে আমি ভিডিওটি দেখেছি। আমি এখন অন্য একটা জায়গায় যাচ্ছি, এখানে কাজ শেষ করে সরেজমিনে ঝাঐল ইউনিয়নের যেয়ে ভিডিও দেখে সত্যতা পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের এই সতর্ক পদক্ষেপ নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
ঘটনার প্রভাব ও সম্ভাব্য পরিণতি
এই ঘটনা সিরাজগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে ভোটারদের মধ্যে আস্থা ও স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ভাইরাল ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায়, এটি একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হতে পারে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তদন্ত ও দ্রুত পদক্ষেপ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সততা রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয়রা এখনও এই ঘটনার তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
