প্রবাসী ভোটারদের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত: প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট দিতে পারছেন। ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে ডাক-ব্যালট পদ্ধতিতে ইতিমধ্যেই ৫ লাখ ১৫ হাজার ৬১৯ জন প্রবাসী ভোট দিয়েছেন। বুধবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যা নথিভুক্ত হয়েছে।
প্রবাসী ভোটারদের ভোটগ্রহণের বিস্তারিত তথ্য
প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন সংক্রান্ত ওসিভি-এসডিআই প্রকল্পের দলনেতা সালিম আহমদ খান জানিয়েছেন, পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত ভোটারদের জন্য গন্তব্য দেশগুলোতে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৮ হাজার ৫৭৯ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট পেয়েছেন এবং ৫ লাখ ১৫ হাজার ৬১৯ জন ভোটদান সম্পন্ন করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৭২২ জন প্রবাসী ভোটার তাদের নিজ নিজ দেশের ডাকঘর বা পোস্ট বক্সে ব্যালট জমা দিয়েছেন। বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো ব্যালটগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩টি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পৌঁছেছে।
মোট ডাক-ব্যালট ভোটারের সংখ্যা
এখন পর্যন্ত মোট ১০ লাখ ৯৬ হাজার ২৮৪ জন ভোটার ডাক-ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। এই সংখ্যায় প্রবাসী বাংলাদেশি ছাড়াও নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা এবং ভোটদানের যোগ্য বন্দিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
দেশের ভেতরের ভোটারদের অবস্থা
বাংলাদেশে বসবাসকারী ভোটারদের জন্য ৭ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮ জন নিবন্ধিত ব্যক্তির কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৬ লাখ ১০ হাজার ৬৫ জন ব্যালট পেয়েছেন এবং ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬ জন ভোটদান সম্পন্ন করেছেন। এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ৬১ হাজার ১৩ জন ডাকঘর বা পোস্ট বক্সে ব্যালট জমা দিয়েছেন এবং ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫টি ব্যালট রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পৌঁছেছে।
মোট নিবন্ধনের চিত্র
পোস্টাল ভোট বিডি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন দুটি নির্বাচনে দেশে ও বিদেশে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ডাক-ব্যালটে ভোটদানের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে প্রবাসী ভোটাররা প্রথমবারের মতো সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।
এই প্রক্রিয়ায় আইটি-সহায়তা নেওয়া ডাক-ব্যালট পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যা ভোটারদের জন্য সহজ ও নিরাপদ ভোটদান নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
