রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সারাদেশের মতো এই আসনেও ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তরুণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সক্রিয় অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বলয় ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি
ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। পুলিশ, আনসার ও বিজিবি সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আক্তার জানিয়েছেন, ভোট সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কেন্দ্রভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সহকারি পুলিশ সুপার গোদাগাড়ী সার্কেল মির্জা আব্দুস সালামও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন।
প্রার্থীদের তালিকা ও প্রতীক
এবারের নির্বাচনে রাজশাহী-১ আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তার বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী গ্রামে। বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত শরীফ উদ্দিন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং তার বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার কেল্লাবারুইপাড়া গ্রামে। এবি পার্টির আব্দুর রহমান ঈগল পাখি প্রতীক নিয়ে, গণঅধিকার পরিষদের মির মো. শাহজাহান ট্রাক প্রতীক নিয়ে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আল-সাআদ মোবাইল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। উল্লেখ্য, সব প্রার্থীই গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা এবং তানোর থেকে কোনো এমপি প্রার্থী এই আসনে নেই।
দ্বিমুখী লড়াই ও ভোটারদের মনোভাব
নির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী থাকলেও আসনটিতে মূল লড়াই হবে দ্বিমুখী। প্রচারণাকালে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়তা এবং ভোটারদের আলোচনা ও সমর্থনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এগিয়ে রয়েছেন। তবে বিএনপির প্রার্থী শরীফ উদ্দিনের প্রচারণাও কম নয়, ফলে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে হাড্ডহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ভোট চাওয়ার তৎপরতা দেখা গেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আল-সাআদের প্রচারণা তেমন চোখে পড়েনি বলে স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছেন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী নেই।
ভোটকেন্দ্র ও ভোটার পরিসংখ্যান
রাজশাহী-১ আসনে মোট ১৫৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে তানোরে ৬১টি এবং গোদাগাড়ীতে ৯৮টি কেন্দ্র অবস্থিত। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। গোদাগাড়ী উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯১০ জন, যার মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩২ জন এবং নারী ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৭৫ জন। তানোর উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৭০ জন, যার মধ্যে পুরুষ ৮৪ হাজার ৫৪৬ জন এবং নারী ৮৭ হাজার ৩২৪ জন। এছাড়া, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ৮১টি কেন্দ্র, যার মধ্যে গোদাগাড়ীতে ৫০টি এবং তানোরে ৩১টি কেন্দ্র রয়েছে।
সর্বোপরি, রাজশাহী-১ আসনে ভোটগ্রহণ একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ভোটারদের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
