বগুড়া-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াই: বিএনপি-জামায়াতের হেভিওয়েটদের বিরুদ্ধে মান্নার চ্যালেঞ্জ
বগুড়া-২ আসনে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে মান্নার লড়াই

বগুড়া-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াই: বিএনপি-জামায়াতের হেভিওয়েটদের বিরুদ্ধে মান্নার চ্যালেঞ্জ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনটি হয়ে উঠেছে উত্তপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দু। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও কেটলি প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর হেভিওয়েট প্রার্থীদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। প্রচার-প্রচারণার জমজমাট পরিবেশের মধ্যেও মান্না দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, "শেষ পর্যন্ত মানুষের ভোটই কথা বলবে।"

প্রার্থী পরিবর্তন ও আসনের গুরুত্ব

মাহমুদুর রহমান মান্না মূলত ঢাকা-১৮ আসন থেকে নির্বাচনী প্রচার চালালেও ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে তিনি সেখান থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। এরপর তিনি পুরো মনোযোগ দেন বগুড়া-২ আসনের প্রচারণায়। এই আসনটি শিবগঞ্জের ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত, যেখানে মোট ভোটারের সংখ্যা তিন লাখ ৪২ হাজার ১৫৫ জন। ঐতিহাসিকভাবেই এই আসনটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে পরিচিত, এবারের নির্বাচনেও সেই ধারা বজায় রয়েছে।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরিচয়

এই আসনে মান্নার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন বিএনপির মীর শাহে আলম ও জামায়াতে ইসলামীর আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান। মীর শাহে আলম বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং দলীয় নেতা তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত। অন্যদিকে আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য।

এছাড়াও এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার, ইসলামী আন্দোলনের জামাল উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম তালু। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জাতীয় পার্টির প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ নির্বাচনী পরিবেশ ও নিরাপত্তার অভাবের কথা উল্লেখ করে ৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

মান্নার অভিযোগ ও আশাবাদ

নির্বাচনি পথচলার শুরু থেকেই নানা বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, "প্রকৃত লড়াই হওয়া উচিত মানুষের সমর্থন নিয়ে। জোরজবরদস্তির প্রতিযোগিতায় আমি নেই। তবে সমর্থনের লড়াইয়ে জয়ের আশা করছি।"

তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভোট নিয়ে যে সকল অভিযোগ ও অনাস্থা তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে সাধারণ মানুষ এখন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যক্ষ করতে চায়। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বড় ধরনের কোনো শঙ্কা প্রকাশ না করলেও স্বীকার করেছেন যে কিছু এলাকায় নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর, নারী কর্মীদের হুমকি এবং বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা ঘটেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, বগুড়া-২ আসনে মূল লড়াইটি হবে ধানের শীষ (বিএনপি) ও দাঁড়িপাল্লা (জামায়াত) প্রতীকের মধ্যে। তবে মান্নার উপস্থিতি এই সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার নাগরিক ঐক্য দলটি যদিও তুলনামূলকভাবে নতুন রাজনৈতিক শক্তি, কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে তার জনসমর্থন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

ত্রিমুখী এই লড়াইয়ে ভোটারদের মনোভাব এখনো অনিশ্চিত। একদিকে প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর প্রার্থীরা সংগঠিত সমর্থন ভিত্তিতে এগিয়ে আছেন, অন্যদিকে মান্না দাবি করছেন জনগণের সরাসরি সমর্থন নিয়ে তিনি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরো তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শিবগঞ্জের মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সব প্রার্থীই শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে তারা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে দেখা করছেন, সমাবেশ করছেন এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এই প্রচারণার গতিই নির্ধারণ করবে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ আসনের ভাগ্য।