রাজনীতি আর কবিতার রসায়ন নতুন নয়। তবে সময় যখন উত্তাল এবং প্রেক্ষিত যখন ক্ষমতার পালাবদল, তখন কবিতার প্রতিটি পঙক্তি হয়ে ওঠে একেকটি রণহুঙ্কার। ঠাকুরগাঁওয়ে ঠিক সেই মেজাজেই ধরা দিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অনুজ ও জেলা বিএনপি সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন।
কবিতার মাধ্যমে বার্তা
বৃহস্পতিবার দলীয় কার্যালয়ে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা শেষে তার কণ্ঠে ধ্বনিত হলো কবি হেলাল হাফিজের সেই কালজয়ী পঙক্তি— ‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়/এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’। বড় ভাইয়ের দেখানো পথেই যে ছোট ভাই হাঁটছেন, ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক অলিন্দে এই আলোচনা এখন তুঙ্গে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল নিছক কবিতা পাঠ নয়; বরং দলের অন্দরে থাকা ‘স্থবিরতা’ ঝেড়ে ফেলে নতুন রক্ত সঞ্চালনের এক সুকৌশলী বার্তা। বিগত কয়েক বছরে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে বিএনপির আন্দোলনের গ্রাফ নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার যখন ভবিষ্যৎ রণকৌশল নিয়ে রুদ্ধদ্বার আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই ফয়সাল আমিনের এই কবিতা পাঠ নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি ‘অক্সিজেন’ জোগায়।
জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মামুন উর রশিদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন এই কবিতার মাধ্যমে আসলে কর্মীদের কাছে একটি বার্তাই পৌঁছে দিতে চেয়েছেন— দলের আদর্শ ও উদ্দেশ্যের প্রতি সৎ থেকে সাংগঠনিকভাবে নিজেদের সুসংগঠিত করা। এই মুহূর্তে দেশ ও মানুষের কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়ার বিকল্প নেই।
স্বতন্ত্র বলয় তৈরির সক্ষমতা
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ফয়সাল আমিন ‘বড় ভাইয়ের অনুগামী’ হয়েও নিজের একটি স্বতন্ত্র বলয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। সভা শেষে যখন তিনি কবিতার শেষ চরণে পৌঁছান, তখন উপস্থিত নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। অনেক নবীন কর্মীই মনে করছেন, শীর্ষ নেতৃত্ব যখন রাজপথে সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তখন হেলাল হাফিজের ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ পাঠ আসলে এক ধরনের ‘পলিটিক্যাল সিগন্যাল’।
ভবিষ্যৎ প্রেক্ষিত
সীমান্তঘেঁষা এই জনপদে মির্জা-ভ্রাতার এই ‘কবিতা-কূটনীতি’ শেষ পর্যন্ত রাজপথে কতটা উত্তাপ ছড়ায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে বৃহস্পতিবারের সভার পর ঠাকুরগাঁওয়ের চা-চক্র থেকে শুরু করে দলীয় কার্যালয়— সর্বত্রই এখন মুখে মুখে ফিরছে সেই একই লাইন- ‘এখন যৌবন যার...’।



