সিরাজগঞ্জের দুই কলেজ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন
সিরাজগঞ্জের দুই শিক্ষককে বরখাস্ত নির্বাচন কমিশন

সিরাজগঞ্জের দুই কলেজ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনে সরাসরি অস্বীকৃতি জানানোয় সিরাজগঞ্জের দুই কলেজ শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার (২২ এপ্রিল) কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার বিবরণ

এর আগে ২০ এপ্রিল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং অফিসার মো. আমিনুল ইসলামের সই করা অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্তটি জানানো হয়। বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন কাজিপুর সরকারি মনসুর আলী কলেজের প্রভাষক আবু তালিব এবং নাটুয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক শামছুল আলম।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের মাত্র একদিন আগে সহকারী অধ্যাপক শামসুল আলম ও প্রভাষক আবু তালিব প্রিসাইডিং অফিসারের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। নিয়োগপত্র গ্রহণের সময় তারা দুইজন দায়িত্ব পালনকে কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিহিত করেন এবং নির্ধারিত কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনুরোধ ও প্রত্যাখ্যান

এ সময় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাদেরকে দায়িত্ব পালনের জন্য বারবার অনুরোধ করলেও তারা তাতেও রাজি হননি। এক পর্যায়ে তারা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে একটি আবেদন লিখে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার টেবিলের ওপর ফেলে রেখে চলে যান।

পরবর্তীতে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী রিটার্নিং অফিসার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ জানান। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ (সংশোধন ২০২৫) এর ধারা ৫(৩) অনুযায়ী তাদের অসদাচরণের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সিদ্ধান্ত ও আইনগত ভিত্তি

সেই আইন অনুযায়ী দুইজনকেই এক মাসের জন্য চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনাটি নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সরকারি কর্মকর্তাদের গুরুত্ব ও জবাবদিহিতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলায় এই ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।